সুুুমন চক্রবর্তী, গণমাধ্যমকর্মী ও মুক্ত লেখক: সাংবাদিক তথ্য উদ্ঘাটন করে জনগনের সামনে তুলে ধরে ন্যায়,অন্যায়,দূর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র। সাংবাদিকদের এরকম তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করলে সহজেই যে কেউ অনিয়ম, দূর্নীতি করার সাহস হারিয়ে ফেলবে। আর এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে একজন সাংবাদিকের সৎ গুণাবলী।নৈতিকতা ঠিক রেখে সামাজিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে এ পেশা চালিয়ে যাওয়াই হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকতা। কারণ জাতি একজন সাংবাদিকের উপর অনেক কিছু আশা করে। জনগণের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটার জন্য সাংবাদিকদের হতে হবে সৎ ও নির্ভিক কলম সৈনিক। সাংবাদিকরা হচ্ছে দেশ প্রেমের দীক্ষায় দীক্ষিত দেশ প্রেমিক, কলম সৈনিক।
শানিত তলোয়ার ও অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর সাংবাদিকের কলম। একলমের মাধ্যমে সমাজ থেকে উৎপাটন করা সম্ভব সকল জঞ্জাল। তাই সমাজের চোখে যারা অপরাধী তারা কিছুটা হলেও ভয় পায় সাংবাদিকদের। শুধু তাই নয় মাফিয়া ডন থেকে শুরু করে মতার উঁচু শিখরে যারা অবস্থান করছেন তারাও সাংবাদিকদের ভয়ে তাদের কর্মকান্ড চালায় কৌশলে ও অতি গোপনে। এমন মতা সম্পন্ন কলম সৈনিকেরা যদি ন্যায়,নীতি, নিষ্ঠা ও নৈতিকতা বজায় রেখে তাদের মহান এ পেশায় নিয়োজিত থাকে তাহলে সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দূর্নীতি অনেকটা কমে যাবে। দেশের সাধারণ মানুষের মনে বর্ষিত হবে শান্তির বাণী। জাতি দেখবে আশার আলো। সাংবাদিকতার জগতে সৎ পেশাদারি সাংবাদিকতার বিপরীতে হলুদ সাংবাদিকতা বলে একটা কথার প্রচলন আছে।
এ হলুদ সাংবাদিকতা আজ সমাজে কালো ছায়া ফেলেছে। হলুদ সাংবাদিকদের এমন কিছু কার্যকলাপের জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজের কাছে আতঙ্ক হিসাবে চিহ্নিত। পেশাদ্বারিত্বের দিক থেকে নীতিবোধে অন্য পেশার লোকদের চেয়ে সাংবাদিকরা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। একটি ভূল তথ্যের সংবাদের কারণে অনেক তিক্ষè হতে পারে। তাই এদিকে যথেষ্ট দ্বায়ীত্বশীল হবে সাংবাদিকের। সমাজে সাংবাদিকদের রয়েছে দায়বদ্ধতা। এ দায়বদ্ধতা হচ্ছে অনিয়ম ও দূর্নীতির সঠিক চিত্র উদ্ঘাটন করে জনসমে তুলে ধরা। আর এ জন্য নানা বাঁধার সন্মুখিন হতে হয় সাংবাদিক দের। এটাই হল সমাজের কাছে সাংবাদিক দের দায়বদ্ধতা। এ দ্বায়বদ্ধতার কারণে এ পেশা আজ সমাজের চোখে মহান পেশা। এ মহান পেশা কলুষিত হয় ইয়েলো জার্নালিজম বা হলুদ সাংবাদিকতার কারণে।
সামাজিক দৃষ্টিতে মহান ও সম্মানজনক এ পেশাকে সমাজের কাছে চির উন্নত রাখাই সাংবাদিকদের কর্তব্য। নৈতিকতা ও নীতি বোধের মধ্যে থেকে সমাজ সেবা করা সাংবাদিকদের ব্রত হওয়া চাই। সমাজে মানুষ যখন এক শ্রেণীর লোকেদের দ্বারা অত্যাচারিত ও নিষ্পেষিত হয়ে কোথাও কোনো বিচার না পায় তখন বাধ্য হয় সাংবাদিকদের নিকট স্বরনাপন্ন হতে। তখন নিষ্পেষিত ঐ লোকটির সাংবাদিকই একমাত্র ভরসা। সমাজের নিরীহ মানুষের এমন দূর্দিনে যদি সাংবাদিকরা নৈতিকতা ও নীতিবোধ বিসর্জন দেয় তাহলে সমাজে সাংবাদিকদের গ্রহণ যোগ্যতা থাকবেনা। আর এ কারণেই সমস্ত সাংবাদিক সমাজ হবে ঘৃনা ও উপহাসের পাত্র।
তাই নৈতিকতা ও আদর্শ্যরে মধ্যে থেকে সমাজের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করলে সর্ব মহলে সাংবাদিকদের মান মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। সাংবাদিকতাই হোক আর অন্য যে কোনো পেশাই হোক নীতিবোধে অটল থাকাই বাঞ্চনীয়। একজন পেশাজীবির নৈতিকতা বিসর্জন দিলে তার আর কিছুই থাকেনা। সংবাদ পরিবেশনায় বিভ্রান্তি বা উস্কানির কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নাই। এজন্য একজন সাংবাদিককে হতে হবে দ্বায়ীত্বশীল সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব। আর থাকতে হবে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন নৈতিকতা।

























