ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে আশীর্বাদ পুষ্ট কর্মকর্তারা যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট সৃষ্টি করে এখন বৈধ করার জন্য মরিয়া

  • আপডেট সময়: ১১:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৪৮৩ জন দেখেছে
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে আশীর্বাদ পুষ্ট কর্মকর্তারা যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট সৃষ্টি করে এখন বৈধ করার জন্য মরিয়া হয়ে অভিযান শুরু করেছে যশোর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামী সোমবারও দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ অন্যায়ভাবে শতাধিক অসহায় গরীব মানুষের মাথা গোজার ঠাই কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২৪ সালে যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট বরাদ্দে ভয়াবহ দুর্নীতি আশ্রয় নেয় কর্তৃপক্ষ  উক্ত প্লট বরাদ্দ বাতিল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত চেয়ে উক্তভোগীদের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন থেকে জানা যায়,  ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে ৪০ বছর যাবত বসবাস কারীগণ  আবেদন করেছেন এই মর্মে যে,বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়া উল্লেখিত প্লট গুলো হাউজিং নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে তাদের মাঝে বরাদ্দ না দিয়ে তদেরকে বঞ্চিত করে, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে,উল্লেখিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের, স্বজনদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক্তার, কলেজের প্রফেসর বড় বড় আমলাদের মাঝে কালো তালিকা করে বৈষম্য নীতি অবলম্বন করে উল্লেখিত স্থানের প্লট গুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে ৫ আগস্টে উল্লেখিত ফ্যাসিস্ট সরকার বিলুপ্ত হলে দুর্নীতির আশ্রয়ে যারা প্লট পেয়েছিল তারা কৌশলে যারা ক্ষমতার পথে ছিল এবং বর্তমান ক্ষমতায় আছে তাদের নিকট কম মূল্যে বিক্রয় করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিলে বর্তমান ক্ষমতাসীন স্বার্থপর নেতাদের চক্রান্তে হাউজিং এর সেই সকল দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তারা সুযোগ বুঝে তাদেরকে বিনা নোটিশে গতকাল মৌখিকভাবে ১/২ দিনের মধ্যে উক্ত স্থান হতে স্থানান্তরের কথা অবগত করেন। ২৪ টা পরিবারের মধ্যে  কেউ কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী,বয়স্ক, শিশু অসুস্থ মানুষ আছে। এই দুই দিনের ব্যবধানে তারা স্থানান্তরের কথা শুনে হতবাক এবং দিশেহারা। সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ইতিপূর্বে যে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাহা বাতিল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত চেয়ে আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে ভক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিনিধিকে জানান,উল্লেখিত স্থানে বসবাসের এই দীর্ঘ সময়ে তাদের নামে বরাদ্দ নেওয়ার জন্য হাউজিং কর্তৃপক্ষের নিকট বহুবার আবেদন করেছেন কিন্তু প্রতিবারই তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন অবৈধভাবে উল্লেখিত  স্থানে প্লট সৃষ্টি করা হয় তখন হাউজিংয়ের নীতিমালা জলাঞ্জলি দিয়ে উক্ত স্থানে খালি প্লট দেখানো হয় এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তিনি গণমাধ্যমকে মিথ্যা ভাবে জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত মাইকিং করেছেন তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য। গতকাল সন্ধ্যার পর মাইকিং করে আজ সকালে বুলডোজার দিয়ে আমাদের সব কিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে মিথ্যাচার করছে এযেনো ফ্যাসিস্ট সরকারের কৌশল।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।

এদিকে অভিযানের সময় সকলে অভিযোগ করেন, তাদেরকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। অভিযানের সময় উচ্ছেদে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা  শাপলা কিন্ডারগার্ডেন নামক একটি বিদ্যালয় ভাঙচুর করেন এ সময় শিক্ষক শিক্ষিকা স্, এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন বিদ্যালয়টি এছাড়াও কর্মকর্তাদের পূর্ব নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ করার কারনে ভুক্তভোগীরা কমপক্ষে ৮০ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিনিধির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্লট সৃষ্টি থেকে আজকে অবৈধ ভাবে অভিযান পর্যন্ত সঠিক তদন্ত হলে যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে আশীর্বাদ পুষ্ট কর্মকর্তারা যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট সৃষ্টি করে এখন বৈধ করার জন্য মরিয়া

আপডেট সময়: ১১:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে  ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবৈধ ভাবে আশীর্বাদ পুষ্ট কর্মকর্তারা যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট সৃষ্টি করে এখন বৈধ করার জন্য মরিয়া হয়ে অভিযান শুরু করেছে যশোর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামী সোমবারও দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ অন্যায়ভাবে শতাধিক অসহায় গরীব মানুষের মাথা গোজার ঠাই কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২৪ সালে যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের সম্পত্তিতে প্লট বরাদ্দে ভয়াবহ দুর্নীতি আশ্রয় নেয় কর্তৃপক্ষ  উক্ত প্লট বরাদ্দ বাতিল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত চেয়ে উক্তভোগীদের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন থেকে জানা যায়,  ৫ নম্বর উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে ৪০ বছর যাবত বসবাস কারীগণ  আবেদন করেছেন এই মর্মে যে,বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভয়াবহ দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়া উল্লেখিত প্লট গুলো হাউজিং নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে তাদের মাঝে বরাদ্দ না দিয়ে তদেরকে বঞ্চিত করে, ২০২৪ সালের প্রথম দিকে,উল্লেখিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের, স্বজনদের, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক্তার, কলেজের প্রফেসর বড় বড় আমলাদের মাঝে কালো তালিকা করে বৈষম্য নীতি অবলম্বন করে উল্লেখিত স্থানের প্লট গুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে ৫ আগস্টে উল্লেখিত ফ্যাসিস্ট সরকার বিলুপ্ত হলে দুর্নীতির আশ্রয়ে যারা প্লট পেয়েছিল তারা কৌশলে যারা ক্ষমতার পথে ছিল এবং বর্তমান ক্ষমতায় আছে তাদের নিকট কম মূল্যে বিক্রয় করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিলে বর্তমান ক্ষমতাসীন স্বার্থপর নেতাদের চক্রান্তে হাউজিং এর সেই সকল দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তারা সুযোগ বুঝে তাদেরকে বিনা নোটিশে গতকাল মৌখিকভাবে ১/২ দিনের মধ্যে উক্ত স্থান হতে স্থানান্তরের কথা অবগত করেন। ২৪ টা পরিবারের মধ্যে  কেউ কেউ এসএসসি পরীক্ষার্থী,বয়স্ক, শিশু অসুস্থ মানুষ আছে। এই দুই দিনের ব্যবধানে তারা স্থানান্তরের কথা শুনে হতবাক এবং দিশেহারা। সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ইতিপূর্বে যে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাহা বাতিল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়ন স্থগিত চেয়ে আবেদন ও স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে ভক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিনিধিকে জানান,উল্লেখিত স্থানে বসবাসের এই দীর্ঘ সময়ে তাদের নামে বরাদ্দ নেওয়ার জন্য হাউজিং কর্তৃপক্ষের নিকট বহুবার আবেদন করেছেন কিন্তু প্রতিবারই তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন অবৈধভাবে উল্লেখিত  স্থানে প্লট সৃষ্টি করা হয় তখন হাউজিংয়ের নীতিমালা জলাঞ্জলি দিয়ে উক্ত স্থানে খালি প্লট দেখানো হয় এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তিনি গণমাধ্যমকে মিথ্যা ভাবে জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত মাইকিং করেছেন তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য। গতকাল সন্ধ্যার পর মাইকিং করে আজ সকালে বুলডোজার দিয়ে আমাদের সব কিছু ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে মিথ্যাচার করছে এযেনো ফ্যাসিস্ট সরকারের কৌশল।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।

এদিকে অভিযানের সময় সকলে অভিযোগ করেন, তাদেরকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। অভিযানের সময় উচ্ছেদে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা  শাপলা কিন্ডারগার্ডেন নামক একটি বিদ্যালয় ভাঙচুর করেন এ সময় শিক্ষক শিক্ষিকা স্, এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন বিদ্যালয়টি এছাড়াও কর্মকর্তাদের পূর্ব নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ করার কারনে ভুক্তভোগীরা কমপক্ষে ৮০ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা এ প্রতিনিধির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্লট সৃষ্টি থেকে আজকে অবৈধ ভাবে অভিযান পর্যন্ত সঠিক তদন্ত হলে যশোর হাউজিং কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে।