ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ জনের মৃত্যু, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ—দুই বছর পরও শনাক্ত হয়নি কেউ! জাবির হোটেল ট্র্যাজেডির মামলায় ৭ জনকে অব্যাহতির আবেদন, তদন্তে উঠছে নতুন প্রশ্ন

  • আপডেট সময়: ০৯:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার, নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের আলোচিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পরও জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের।

কী ঘটেছিল সেদিন?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মচারী ও বোর্ডার ছিলেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বিভিন্ন তলায় আগুন দেওয়া হয়।

তদন্তে কী মিলল?
ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে ওই সাতজনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের জায়গা কোথায়?
এখানেই বড় প্রশ্ন—২৪ জন মানুষের মৃত্যু, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেল না কেন?
ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য, আগুনের উৎস, লুট হওয়া মালামালের গতিপথ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য কতটা যাচাই করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাতজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে না পারা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনগত অবস্থানও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

লোকসমাচারের অনুসন্ধানী প্রশ্ন:
২৪ জনের প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনায় যদি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না মেলে, তাহলে প্রকৃত হামলাকারীরা কারা? তদন্তে কোন কোন আলামত পরীক্ষা করা হয়েছিল? কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত বাদ পড়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করাই এখন পরবর্তী অনুসন্ধানের মূল বিষয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

২৪ জনের মৃত্যু, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ—দুই বছর পরও শনাক্ত হয়নি কেউ! জাবির হোটেল ট্র্যাজেডির মামলায় ৭ জনকে অব্যাহতির আবেদন, তদন্তে উঠছে নতুন প্রশ্ন

আপডেট সময়: ০৯:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার, নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের আলোচিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জন নিহতের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পরও জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের।

কী ঘটেছিল সেদিন?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে চিত্রা মোড়ের এমএম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মচারী ও বোর্ডার ছিলেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। পরে হোটেলের বিভিন্ন তলায় আগুন দেওয়া হয়।

তদন্তে কী মিলল?
ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে ওই সাতজনের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানের জায়গা কোথায়?
এখানেই বড় প্রশ্ন—২৪ জন মানুষের মৃত্যু, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করা গেল না কেন?
ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য, আগুনের উৎস, লুট হওয়া মালামালের গতিপথ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য কতটা যাচাই করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাতজনের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে না পারা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনগত অবস্থানও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

লোকসমাচারের অনুসন্ধানী প্রশ্ন:
২৪ জনের প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনায় যদি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না মেলে, তাহলে প্রকৃত হামলাকারীরা কারা? তদন্তে কোন কোন আলামত পরীক্ষা করা হয়েছিল? কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলামত বাদ পড়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করাই এখন পরবর্তী অনুসন্ধানের মূল বিষয়।