ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

  • আপডেট সময়: ১০:২৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ জন দেখেছে
Spread the love

জাফরান আকন্দ,ঢাকা অফিস:দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এ সমস্যা সমাধানে আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আয়োডিনের ঘাটতি দূর করতে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান।
বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, এনআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, লবণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ জনবল তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিক। একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের বাজারজাতকরণে বিসিক সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আয়োডিন মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি অনুপুষ্টি। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিলে গলগণ্ড, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস, গর্ভাবস্থায় জটিলতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও জানান, নব্বইয়ের দশকের আগে বাংলাদেশে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রকট ছিল। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯৯০ সাল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ কার্যক্রমের আওতায় লবণ মিল নিবন্ধন, পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি সহায়তা, লবণ মিল ও বাজার পর্যায়ে তদারকি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিসিকের এ কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে দেশের ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে। এর ফলে দৃশ্যমান গলগণ্ড নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, কোনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে দেশটি এ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। বাংলাদেশও সেই স্বীকৃতি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বর্তমানে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে আরও ২ শতাংশ পরিবারকে এ ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন, সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, লবণ মিলমালিক, সাধারণ ভোক্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময়: ১০:২৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

জাফরান আকন্দ,ঢাকা অফিস:দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এ সমস্যা সমাধানে আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আয়োডিনের ঘাটতি দূর করতে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান।
বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, এনআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির।

সভাপতির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ বলেন, লবণ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ জনবল তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিক। একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের বাজারজাতকরণে বিসিক সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আয়োডিন মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি অনুপুষ্টি। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দিলে গলগণ্ড, শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস, গর্ভাবস্থায় জটিলতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ, সবল ও মেধাবী জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তারা আরও জানান, নব্বইয়ের দশকের আগে বাংলাদেশে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রকট ছিল। এ সমস্যা সমাধানে সরকার ১৯৯০ সাল থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ কার্যক্রমের আওতায় লবণ মিল নিবন্ধন, পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহ, আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি সহায়তা, লবণ মিল ও বাজার পর্যায়ে তদারকি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিসিকের এ কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে দেশের ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে। এর ফলে দৃশ্যমান গলগণ্ড নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, কোনো দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে দেশটি এ ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। বাংলাদেশও সেই স্বীকৃতি অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বর্তমানে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে আরও ২ শতাংশ পরিবারকে এ ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন, সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, লবণ মিলমালিক, সাধারণ ভোক্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।