লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার শাদীপুর গ্রামে ডেকে নিয়ে সাংবাদিক মোঃ আলী জিন্নাহকে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে আটকে রাখা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়ী কামাল ফারাজির সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে চাপের মধ্যে রাখছেন।
আলী জিন্নাহর অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বর বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান তপন,সহ আরও অনেকে । তবে তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা, ঘটনার সময় উপস্থিতি এবং অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অডিও বক্তব্য সংরক্ষণ আছে তা প্রকাশ করা হবে। আলী জিন্নাহ দৈনিক লোকসমাচার ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক এবং দৈনিক আজকালের সংবাদ-এর খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছেন।
পাওনা টাকার বিরোধ যেভাবে শুরু
আলী জিন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আত্মীয় বিল্লালের সঙ্গে ব্যবসায়ী কামাল ফারাজির কথিত আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি ওই লেনদেনের ক্ষেত্রে জামিনদার হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এ সময় তাঁর কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্প নেওয়া হয়েছিল।
আলী জিন্নাহর দাবি, কামাল ফারাজির সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো ঋণ গ্রহণ বা টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বৈধ আর্থিক দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালত বা প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে চেক, স্ট্যাম্প, জামিনের শর্ত, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই না করে এ বিরোধে কার কত টাকা পাওনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ সুপারের কাছে দুই দফা অভিযোগ
আলী জিন্নাহ জানান, গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে প্রথম লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁর আবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযোগটি তদন্তের জন্য তৎকালীন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অলোক বাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই পর্যায়ে আইনগতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
পরবর্তী সময়ে বিরোধটি আবার জটিল হয়ে উঠলে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ দেন। দ্বিতীয় অভিযোগে তিনি কথিত চাপ, হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি এবং হত্যার হুমকির বিষয় তুলে ধরেন।
আলী জিন্নাহর অভিযোগ, দ্বিতীয় আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পুলিশি ব্যবস্থা তাঁর নজরে আসেনি। তবে পুলিশের দাপ্তরিক নথি যাচাই করে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা এবং তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৈনিক লোকসমাচার ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও আলী জিন্নাহ পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, কথিত হুমকি এবং পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন।
‘এই টাকার জন্য আপনি মার্ডার হয়ে যাবেন’—আগের হুমকির অভিযোগ পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া দ্বিতীয় অভিযোগে আলী জিন্নাহ উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, কামাল ফারাজি তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে আনসারুল হক রানার কাছে অভিযোগ করেছেন।
আলী জিন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে রানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দেওয়া একজনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং দেখা করতে বলা হয়। সাক্ষাতের সময় তাঁকে, ‘এই টাকার জন্য আপনি মার্ডার হয়ে যাবেন’—এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আলী জিন্নাহর দাবি, ওই বক্তব্যের পর থেকেই তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে কথিত হুমকির ঘটনা, বক্তব্যদাতার পরিচয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শাদীপুরে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা ও হত্যার হুমকির নতুন অভিযোগ আলী জিন্নাহর সর্বশেষ অভিযোগ, ১৮ অক্টোবর বিকেলে তাঁকে বাঘারপাড়া উপজেলার শাদীপুর গ্রামে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাওনা টাকা ও জামিনের অর্থ পরিশোধের বিষয় নিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে আটকে রাখা এবং হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আনসারুল হক রানা দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে মনিরুজ্জামান তপন সহ কয়েকজনকে তাঁর বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টিতে ব্যবহার করছেন।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অডিও-ভিডিও, ফোনালাপ কিংবা অন্য কোনো স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শাদীপুরে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কেউ তাঁকে আটকে রাখা বা হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
সাংবাদিকতার পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
আলী জিন্নাহ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছেন। বর্তমানে নিজের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দৈনিক লোকসমাচার ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দৈনিক আজকালের সংবাদ-এর খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো হিসেবেও কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালে দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কথিত দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি এই প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়নি।
আলী জিন্নাহর বক্তব্য, ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধের কারণে তাঁর সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা যেন হুমকির মুখে না পড়ে, সে জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি
আলী জিন্নাহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর দুটি অভিযোগের অগ্রগতি যাচাই, কথিত হুমকির ঘটনা তদন্ত, আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা এবং জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বৈধ পাওনা বা আইনগত দাবি থাকলে তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার জবাব দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই প্রতিবেদনের জন্য আনসারুল হক রানা, মনিরুজ্জামান তপন কামাল ফারাজি এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যশোরের পুলিশ সুপারের দপ্তরের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ: পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থাকলে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত আইনগত প্রক্রিয়ায়। একই সঙ্গে হত্যার হুমকি, বেআইনি আটক বা জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের।























