ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু : তদন্তের পর কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: স্বাস্থ্যের ডিজি

  • আপডেট সময়: ০৮:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • ১১৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এরই মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপ-পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে।

ডিজি জানান, হাসপাতালে ব্যবস্থাপনার কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং যে কক্ষে তারা ছিল, সেই পরিবেশে কোনো সমস্যা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে এসি-সংক্রান্ত বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে সেগুলোও নির্ণয় করা হবে। প্রয়োজনে কারিগরি বিশেষজ্ঞও কমিটিতে যুক্ত করা হবে। যদি কোনো প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরও যুক্ত করা হবে।

প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সেবায় কোনো গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অবকাঠামোগত বা কারিগরি ত্রুটি পাওয়া গেলে স্তরভেদে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, এখানে ১১ জন মা ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন তাদের নবজাতক সন্তান নিয়ে ছিলেন, যাদের বয়স একদিন থেকে তিনদিনের মধ্যে। বাকি পাঁচ নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডেলিভারি ওয়ার্ড এবং পঞ্চম তলায় এনআইসিইউতে তারা ছিল। জন্মগত জটিলতার কারণে তারা সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

কক্ষটির পরিবেশ সম্পর্কে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি-সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যে কোনো কারণে এখানে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে। আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে ছিল যে এটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে এখানে চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুকে আমরা হারিয়েছি।’

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালার পর এবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু : তদন্তের পর কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: স্বাস্থ্যের ডিজি

আপডেট সময়: ০৮:১৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এরই মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের উপ-পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এবং অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে।

ডিজি জানান, হাসপাতালে ব্যবস্থাপনার কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং যে কক্ষে তারা ছিল, সেই পরিবেশে কোনো সমস্যা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে এসি-সংক্রান্ত বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে সেগুলোও নির্ণয় করা হবে। প্রয়োজনে কারিগরি বিশেষজ্ঞও কমিটিতে যুক্ত করা হবে। যদি কোনো প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরও যুক্ত করা হবে।

প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সেবায় কোনো গাফিলতি, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অবকাঠামোগত বা কারিগরি ত্রুটি পাওয়া গেলে স্তরভেদে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, এখানে ১১ জন মা ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন তাদের নবজাতক সন্তান নিয়ে ছিলেন, যাদের বয়স একদিন থেকে তিনদিনের মধ্যে। বাকি পাঁচ নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডেলিভারি ওয়ার্ড এবং পঞ্চম তলায় এনআইসিইউতে তারা ছিল। জন্মগত জটিলতার কারণে তারা সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

কক্ষটির পরিবেশ সম্পর্কে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আজকে ভোরবেলায় এই কক্ষে এসি-সংক্রান্ত জটিলতা অথবা অন্য যে কোনো কারণে এখানে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে। আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে ছিল যে এটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আর কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে এখানে চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুকে আমরা হারিয়েছি।’

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।