ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

  • আপডেট সময়: ০৯:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এ আইনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, শিক্ষা একটি অধিকার। কিন্তু এতদিন শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এমন কোনো সমন্বিত আইন ছিল না। এই আইন প্রথমবারের মতো সেই শূন্যতা পূরণ করছে।

তিনি বলেন, আইন কখনোই খুব বিস্তারিত হয় না। এটি মূলত দিকনির্দেশনা দেয়। ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতির মাধ্যমে একে আরও কার্যকর করা হবে।

আইনটি তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে; এমন অভিযোগকে নাকচ করে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘ আলোচনার ফল। মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন জেলার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

সি আর আবরার বলেন, ‘আইন করা রান্নার মতো। রান্নার আগে উপকরণ জোগাড় করতে হয়। সেই প্রস্তুতিটা আমরা করেছি।’

প্রস্তাবিত আইনে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ইউআইএন) চালু, অপ্রয়োজনীয় ও মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একত্রিতকরণ, কোচিং সেন্টার ও নোট বই নির্ভরতা কমাতে ধাপে ধাপে (ফেজ-আউট) ব্যবস্থা, জাতীয় শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, কারিগরি, আইসিটি ও এআইভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানবিক শিক্ষার ওপর আইনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনে শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, মানবাধিকার ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে যৌন ও মানসিক নিপীড়নকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে এই নীতিনির্ধারক বলেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়। একজন শিক্ষার্থী যেন মানবিক ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাও এই আইনের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এতে প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীর তথ্য এক ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভর্তি, সার্টিফিকেট যাচাই কিংবা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে যাওয়ার সময় বারবার যাচাইয়ের দরকার হবে না।

পাশাপাশি আইনে বাংলা ভাষার প্রাধান্য রেখে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাষাকে দক্ষতা বা স্কিল হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বিশেষ করে আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও আইনে স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনটি নিখুঁত নয় জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই আইন উন্নত করার সুযোগ আছে। কিন্তু এটিকে তাড়াতাড়ি করে করা বা অগ্রহণযোগ্য বলা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রথম একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন হচ্ছে; এটাই এর সবচেয়ে বড় অর্জন।

সূত্র জানায়, এতদিন শিক্ষা পরিচালনা হয়েছে বিভিন্ন পরিপত্র, নীতিমালা ও বিধিমালার মাধ্যমে, যা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন শিক্ষা আইন সেই সব বিষয়কে একত্র করে একটি সামগ্রিক ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

ঈদের দিন যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ সরকারের

আপডেট সময়: ০৯:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে শিক্ষাকে নাগরিকের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এ আইনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, শিক্ষা একটি অধিকার। কিন্তু এতদিন শিক্ষাকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এমন কোনো সমন্বিত আইন ছিল না। এই আইন প্রথমবারের মতো সেই শূন্যতা পূরণ করছে।

তিনি বলেন, আইন কখনোই খুব বিস্তারিত হয় না। এটি মূলত দিকনির্দেশনা দেয়। ভবিষ্যতে বিধিমালা ও নীতির মাধ্যমে একে আরও কার্যকর করা হবে।

আইনটি তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে; এমন অভিযোগকে নাকচ করে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘ আলোচনার ফল। মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন জেলার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

সি আর আবরার বলেন, ‘আইন করা রান্নার মতো। রান্নার আগে উপকরণ জোগাড় করতে হয়। সেই প্রস্তুতিটা আমরা করেছি।’

প্রস্তাবিত আইনে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ইউআইএন) চালু, অপ্রয়োজনীয় ও মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একত্রিতকরণ, কোচিং সেন্টার ও নোট বই নির্ভরতা কমাতে ধাপে ধাপে (ফেজ-আউট) ব্যবস্থা, জাতীয় শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব, কারিগরি, আইসিটি ও এআইভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানবিক শিক্ষার ওপর আইনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনে শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ, নৈতিকতা, মানবাধিকার ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে যৌন ও মানসিক নিপীড়নকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে এই নীতিনির্ধারক বলেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়। একজন শিক্ষার্থী যেন মানবিক ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে, সেটাও এই আইনের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এতে প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার্থীর তথ্য এক ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভর্তি, সার্টিফিকেট যাচাই কিংবা এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যটিতে যাওয়ার সময় বারবার যাচাইয়ের দরকার হবে না।

পাশাপাশি আইনে বাংলা ভাষার প্রাধান্য রেখে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাষাকে দক্ষতা বা স্কিল হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বিশেষ করে আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও আইনে স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনটি নিখুঁত নয় জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই আইন উন্নত করার সুযোগ আছে। কিন্তু এটিকে তাড়াতাড়ি করে করা বা অগ্রহণযোগ্য বলা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রথম একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন হচ্ছে; এটাই এর সবচেয়ে বড় অর্জন।

সূত্র জানায়, এতদিন শিক্ষা পরিচালনা হয়েছে বিভিন্ন পরিপত্র, নীতিমালা ও বিধিমালার মাধ্যমে, যা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন শিক্ষা আইন সেই সব বিষয়কে একত্র করে একটি সামগ্রিক ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। সূত্র: বাসস