লোকসমাচার,বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়া শহরে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করা মাতাল তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রাতে ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে তরুণীর আড্ডা, মদ্যপান ও ধর্ষণের ঘটনায় নেটিজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তরুণীর মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী। এরআগে, রোববার দিবাগত রাতে শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী তরুণী।
গ্রেপ্তার তিনজন- শহরের ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া মহল্লার রায়হানের ছেলে কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়ার হাতেম আলী পাইকারের ছেলে বাধন (১৯) ও উত্তর কাটনারপাড়া মহল্লার গোলাম রব্বানীর ছেলে রকি (১৯)। ঘটনার আগে অভিযুক্ত বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করে ভুক্তভোগী তরুণী। তারা মাঝেমধ্যেই দেখা করে আড্ডা দেয় এবং মাদকাসক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শিবগঞ্জ উপজেলার তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের বন্ধুত্ব রয়েছে। রোববার রাত ৮টার দিকে শহরের একটি শপিংমলে তারা আড্ডা দেয়। সেখানে তরুণীসহ অভিযুক্ত কাওছার, বাধন, সাদিকসহ আরও একজন উপস্থিত ছিল। সেখানে সবাই মিলে মদ্যপানের পরিকল্পনা করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করা হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ সংলগ্ন শ্মশানঘাট রাস্তার পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে তারা মদের আসর বসায়। সেখানে রকি নামের আরও একজন যোগ দেয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মদ্যপানে মাতাল অবস্থায় ছেলে বন্ধুরা প্রথমে তার শ্লীলতাহানি করে। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। তরুণীকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাধন। পথিমধ্যে বিগ-বাজার এলাকার কাছে পৌঁছালে তরুণী চিৎকার দেয়। সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় বাধন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী ফাঁড়ি পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনের নামে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তরুণীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

























