ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ: জন এফ ড্যানিলোভিচ

  • আপডেট সময়: ১১:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৭১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারত, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে সরকার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময় এখন শেষের দিকে।

সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত চাওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ড্যানিলোভিচ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা সহজে দূর হওয়ার নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাস ও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধীরে কিন্তু সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারও সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার আলোচনা নিয়েও কথা বলেন ড্যানিলোভিচ। তার মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে চীন একটি বড় সম্ভাবনার উৎস। মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোও স্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে।

তিনি মনে করেন, এই করিডোর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, যদি ঢাকা দক্ষতার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখতে পারে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপ এককভাবে বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এই করিডোর নিয়ে সমালোচনার বড় অংশই ভুল তথ্যভিত্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংকট সমাধানে রাখাইনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নয়নকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

এদিকে, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের দিকে ঝুঁকছে। আসিয়ানের অংশীদার হতে ঢাকার সক্রিয় প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে বলে মনে করেন ড্যানিলোভিচ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ: জন এফ ড্যানিলোভিচ

আপডেট সময়: ১১:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, যেখানে ভারত, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে সরকার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময় এখন শেষের দিকে।

সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত চাওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। ড্যানিলোভিচ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা সহজে দূর হওয়ার নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিহাস ও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধীরে কিন্তু সুস্পষ্ট নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারও সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার আলোচনা নিয়েও কথা বলেন ড্যানিলোভিচ। তার মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে চীন একটি বড় সম্ভাবনার উৎস। মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানোও স্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে।

তিনি মনে করেন, এই করিডোর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, যদি ঢাকা দক্ষতার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখতে পারে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থীর চাপ এককভাবে বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

এই করিডোর নিয়ে সমালোচনার বড় অংশই ভুল তথ্যভিত্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংকট সমাধানে রাখাইনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উন্নয়নকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

এদিকে, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান ও ডি-৮ জোটের দিকে ঝুঁকছে। আসিয়ানের অংশীদার হতে ঢাকার সক্রিয় প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে বলে মনে করেন ড্যানিলোভিচ।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম