ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দিদের সঙ্গে যেমন ছিল নবীজির (সা.) আচরণ

  • আপডেট সময়: ০৫:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
  • ১১০ জন দেখেছে
Spread the love

লোসমাচার ডেস্ক:বন্দিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে- এ ক্ষেত্রে নবীজির নির্দেশনা ছিল, একজন অপরাধীকে কারাগারে বন্দি রাখা হবে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়; বরং তাকে সঠিক পথ বলে দিয়ে গন্তব্য দেখানোর জন্য। তার জীবন যে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে সে অন্ধকার দূরীভূত করে আলোর রশ্মি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য।

যারা বন্দিদের তত্ত্বাবধানে থাকবে তাদের আচরণ-উচ্চারণ, চলাফেরা সব কিছু দেখেই মুগ্ধ হয়ে সে আলোর পথে ছুটে আসবে। কিন্তু যদি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাহলে তো সে বন্দি অন্ধকারের দিকে আরো বেশি করে ছুটবে।

বন্দিদের সঙ্গে প্রিয় নবীজির আচরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সুমামা ইবনে উসালের ঘটনা। তিনি ছিলেন ইয়ামামার অধিবাসীদেও নেতা। সে রাসুলকে হত্যা করার জন্য মদিনায় এসেছিল। আর নবীজি তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন, তার কিছু নমুনা এই হাদিসে এসেছে।

একবার নবীজি কিছুসংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্যকে ‘নাজদ’-এর দিকে পাঠান। অতঃপর বনু হানিফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে তারা ধরে নিয়ে এলো। তার নাম ছিল সুমামাহ ইবনে উসাল। তিনি ইয়ামামাবাসীর সরদার ছিলেন। তারা মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখল।

এরপর রাসুলুল্লাহ সা. তার কাছে এলেন এবং বলেন, হে সুমামাহ, তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে জবাব দিল, আমার কাছে তো ভালোই মনে হচ্ছে। আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে খুনি ব্যক্তিকেই হত্যা করলেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে, আপনি যা চাইবেন।

রাসুলুল্লাহ সা. তাকে যথাবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে নবীজি তিন দিন তার সঙ্গে কথা বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তোমরা সুমামাহকে ছেড়ে দাও। তারপর সুমামাহ মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিকট গেলেন। সেখানে তিনি গোসল করলেন।

এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সা. তার বান্দা ও রাসুল। হে মুহাম্মদ, আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আমার কাছে আপনার চেহারার চেয়ে খারাপ চেহারা আর ছিল না। আর এখন সব মানুষের চেহারা থেকে আপনার চেহারাই আমার বেশি প্রিয়। আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম থেকে বেশি খারাপ ধর্ম আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার ধর্মই আমার কাছে সব ধর্ম থেকে অধিক প্রিয়।

আল্লাহর কসম! আপনার জনপদ থেকে বেশি নিকৃষ্ট জনপদ আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার জনপদই আমার কাছে সব জনপদের চেয়ে বেশি প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। অথচ আমি তখন ওমরা করার ইচ্ছা করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

এরপর রাসুলুল্লাহ সা. তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং ওমরাহ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় ফিরে এলেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি কি ধর্মান্তরিত হয়েছ? তখন তিনি বললেন, না; বরং আমি নবীজির কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি।

আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের কাছে পৌঁছাবে না। যতক্ষণ না নবীজি তাতে সম্মতি দেন।

বন্দিদের সঙ্গে কোমল আচরণ :

বন্দিদের সঙ্গে প্রিয় নবীজি কোমল আচরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। নবীজি যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে যে সদয় আচরণের আদেশ দিয়েছেন তা শুধু মুখে বলে সীমাবদ্ধ করেননি, বরং বাস্তবে প্রয়োগ করে তিনি দেখিয়েছেন। তাদের সঙ্গে এমন সুন্দর আচরণ করতেন, যাতে তারা নিজেদের নবীজির কাছে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করতে বাধ্য হয়।

তাদের খাবারদাবার ইত্যাদি বিষয়ে সাহাবাদের সতর্ক করেছেন। নবীজি বলেছেন, যুদ্ধবন্দিদের প্রতি কল্যাণের ও সদাচরণের অঙ্গীকার গ্রহণ করো।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবীজি সাহাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা বন্দিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করো। ফলে সাহাবারা খানার সময় তাদের নিজেদের থেকে প্রাধান্য দিতেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয়

বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হচ্ছে ই-পারিবারিক আপিল আদালত

বন্দিদের সঙ্গে যেমন ছিল নবীজির (সা.) আচরণ

আপডেট সময়: ০৫:৩৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৩
Spread the love

লোসমাচার ডেস্ক:বন্দিদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে- এ ক্ষেত্রে নবীজির নির্দেশনা ছিল, একজন অপরাধীকে কারাগারে বন্দি রাখা হবে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়; বরং তাকে সঠিক পথ বলে দিয়ে গন্তব্য দেখানোর জন্য। তার জীবন যে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে সে অন্ধকার দূরীভূত করে আলোর রশ্মি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য।

যারা বন্দিদের তত্ত্বাবধানে থাকবে তাদের আচরণ-উচ্চারণ, চলাফেরা সব কিছু দেখেই মুগ্ধ হয়ে সে আলোর পথে ছুটে আসবে। কিন্তু যদি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাহলে তো সে বন্দি অন্ধকারের দিকে আরো বেশি করে ছুটবে।

বন্দিদের সঙ্গে প্রিয় নবীজির আচরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সুমামা ইবনে উসালের ঘটনা। তিনি ছিলেন ইয়ামামার অধিবাসীদেও নেতা। সে রাসুলকে হত্যা করার জন্য মদিনায় এসেছিল। আর নবীজি তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন, তার কিছু নমুনা এই হাদিসে এসেছে।

একবার নবীজি কিছুসংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্যকে ‘নাজদ’-এর দিকে পাঠান। অতঃপর বনু হানিফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে তারা ধরে নিয়ে এলো। তার নাম ছিল সুমামাহ ইবনে উসাল। তিনি ইয়ামামাবাসীর সরদার ছিলেন। তারা মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখল।

এরপর রাসুলুল্লাহ সা. তার কাছে এলেন এবং বলেন, হে সুমামাহ, তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে? সে জবাব দিল, আমার কাছে তো ভালোই মনে হচ্ছে। আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে খুনি ব্যক্তিকেই হত্যা করলেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে, আপনি যা চাইবেন।

রাসুলুল্লাহ সা. তাকে যথাবস্থায় রেখে দিলেন। এভাবে নবীজি তিন দিন তার সঙ্গে কথা বলেন, এরপর রাসুলুল্লাহ সা. বললেন, তোমরা সুমামাহকে ছেড়ে দাও। তারপর সুমামাহ মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিকট গেলেন। সেখানে তিনি গোসল করলেন।

এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সা. তার বান্দা ও রাসুল। হে মুহাম্মদ, আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আমার কাছে আপনার চেহারার চেয়ে খারাপ চেহারা আর ছিল না। আর এখন সব মানুষের চেহারা থেকে আপনার চেহারাই আমার বেশি প্রিয়। আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম থেকে বেশি খারাপ ধর্ম আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার ধর্মই আমার কাছে সব ধর্ম থেকে অধিক প্রিয়।

আল্লাহর কসম! আপনার জনপদ থেকে বেশি নিকৃষ্ট জনপদ আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার জনপদই আমার কাছে সব জনপদের চেয়ে বেশি প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। অথচ আমি তখন ওমরা করার ইচ্ছা করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

এরপর রাসুলুল্লাহ সা. তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং ওমরাহ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় ফিরে এলেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি কি ধর্মান্তরিত হয়েছ? তখন তিনি বললেন, না; বরং আমি নবীজির কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি।

আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের কাছে পৌঁছাবে না। যতক্ষণ না নবীজি তাতে সম্মতি দেন।

বন্দিদের সঙ্গে কোমল আচরণ :

বন্দিদের সঙ্গে প্রিয় নবীজি কোমল আচরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। নবীজি যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে যে সদয় আচরণের আদেশ দিয়েছেন তা শুধু মুখে বলে সীমাবদ্ধ করেননি, বরং বাস্তবে প্রয়োগ করে তিনি দেখিয়েছেন। তাদের সঙ্গে এমন সুন্দর আচরণ করতেন, যাতে তারা নিজেদের নবীজির কাছে নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করতে বাধ্য হয়।

তাদের খাবারদাবার ইত্যাদি বিষয়ে সাহাবাদের সতর্ক করেছেন। নবীজি বলেছেন, যুদ্ধবন্দিদের প্রতি কল্যাণের ও সদাচরণের অঙ্গীকার গ্রহণ করো।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবীজি সাহাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা বন্দিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করো। ফলে সাহাবারা খানার সময় তাদের নিজেদের থেকে প্রাধান্য দিতেন।