লোকসমাচার,নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলের নড়াগাতী থানা এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা। রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ দিন দিন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, গ্যাস সিলিন্ডার, মোটর থেকে শুরু করে দোকান ও বসতবাড়ির মূল্যবান মালামাল চুরির ঘটনায় এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াগাতী থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। গভীর রাতে দোকানের তালা ভেঙে কিংবা টিন কেটে নগদ অর্থ ও মালামাল লুটে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বসতঘরেও ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করছে সংঘবদ্ধ চক্র।
সম্প্রতি খাশিয়াল ইউনিয়নের বি-পাটনা গ্রামের অসহায় কৃষ্ণ চক্রবর্তীর দুটি গাভী ও একটি ষাঁড় চুরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গরুগুলোই ছিল পরিবারটির একমাত্র সম্বল। কৃষিজমি না থাকায় ওই পরিবার এখন চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বড়দিয়া কলেজ এলাকার মুদি দোকানদার অলিয়ার মোল্যা ও এনায়েত মোল্যাসহ একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চোরচক্র দোকানের ওপরের টিন কেটে লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। নড়াগাতীর বিভিন্ন বাজারে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং বাজার এলাকায় রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, “চোর-ডাকাতদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তবে অপরাধ দমনে স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন। বড় বাজারগুলোতে পাহারাদার নিয়োগ করা হলে পুলিশের কাজ আরও সহজ হবে।”
উল্লেখ্য, নড়াগাতী থানার আওতাধীন ৬টি ইউনিয়ন হলো— কলাবাড়িয়া, জয়নগর, বাঐশোনা, খাশিয়াল, মাউলি ও পহরডাঙ্গা।

























