রাজনীতি মানুষের জন্য—মানুষের কল্যাণ, অধিকার আর ভবিষ্যৎ গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথে মতের ভিন্নতা থাকবে, তর্ক থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন কখনো মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্পর্কের উষ্ণতা আর বন্ধুত্বের পবিত্রতাকে গ্রাস না করে।
বন্ধুত্ব এমন এক জায়গা, যেখানে স্বার্থের হিসাব থাকে না; থাকে আস্থা, শ্রদ্ধা আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। অথচ আজকাল আমরা দেখছি—রাজনীতির ভিন্ন মতের কারণে বছরের পর বছর গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ভেঙে যাচ্ছে, সম্পর্কগুলো হয়ে যাচ্ছে শীতল। মতের অমিল যেন মানুষকেই আলাদা করে দিচ্ছে।
আমরা ভুলে যাই—রাজনীতি একটি মত, কিন্তু বন্ধুত্ব একটি অনুভূতি। মত বদলাতে পারে, সময় বদলাতে পারে, ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে—কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো বদলায় না। সেই বন্ধুত্বই আমাদের মানবিক রাখে, সহনশীল হতে শেখায়, ভিন্ন মতকে সম্মান করতে শেখায়।
একজন বন্ধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করতেই পারে—তাই বলে সে শত্রু হয়ে যায় না। বরং ভিন্ন মতের মাঝেই যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকে, সেখানেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
চলুন আমরা এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলি—
যেখানে রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে, কিন্তু মনভেদ থাকবে না;
বিতর্ক থাকবে, কিন্তু বিদ্বেষ থাকবে না;
প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন থাকবে না।
কারণ দিন শেষে, রাজনীতি আমাদের পরিচয়ের একটি অংশ,
কিন্তু বন্ধুত্ব আমাদের হৃদয়ের পরিচয়।
‘ভিন্ন এক কষ্ট ও দর্শন থেকে লিখেছেন-
মুক্তার হোসেন
সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক,মণিরামপুর উপজেলা যুবদল

নিজস্ব প্রতিনিধি 


















