ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

  • আপডেট সময়: ০৮:১৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানের অবরোধের মুখে বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে নিয়ে প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে প্রধান কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সৌদি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে এখন থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্যরাষ্ট্রগুলো এভং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্য জাহাজ চলাচল রুটে অবরোধ জারি করে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি; তার পরেই আছে লোহিত সাগর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে তেহরান। ফলে বিকল্প পথ হিসেবে এতদিন লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলো।

আর সৌদির কাছে বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব অনেক; কারণ দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবুর অবস্থান এই প্রণালির কাছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা করে হুথি গোষ্ঠী।

ইয়ানাবুতে হামলার পরেই এই প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে রিয়াদ। এ লক্ষ্যে সৌদির মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেক ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং এ দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মত হয়।

জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলো হলো— বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্য (বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার) লোহিত সাগর ও এর আশপাশের রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নৌ-স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

আপডেট সময়: ০৮:১৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানের অবরোধের মুখে বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে নিয়ে প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। নতুন এই জোটে প্রধান কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সৌদি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জোটের প্রধান কমান্ডার হিসেবে এখন থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি জোটের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেখভাল, সদস্যরাষ্ট্রগুলো এভং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে যোগাযোগ-সমন্বয় এবং জোটের অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযোগকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্য জাহাজ চলাচল রুটে অবরোধ জারি করে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর জ্বালানি তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি; তার পরেই আছে লোহিত সাগর এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে তেহরান। ফলে বিকল্প পথ হিসেবে এতদিন লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে আসছিল মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলো।

আর সৌদির কাছে বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব অনেক; কারণ দেশটির অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানাবুর অবস্থান এই প্রণালির কাছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে ইয়ানাবু বন্দরে ড্রোন হামলা করে হুথি গোষ্ঠী।

ইয়ানাবুতে হামলার পরেই এই প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে রিয়াদ। এ লক্ষ্যে সৌদির মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেক ৬০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং এ দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ জোটে যোগ দিতে সম্মত হয়।

জোটের সদস্যরাষ্ট্রগুলো হলো— বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পশ্চিমমুখী রপ্তানি বাণিজ্য (বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার) লোহিত সাগর ও এর আশপাশের রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। তাই এই জলপথের নিরাপত্তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নৌ-স্বাধীনতার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।