ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোতে চলবে ইন্টারনেট!

  • আপডেট সময়: ০৯:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০
  • ১৪৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : অপটিক্যাল তারহীন আলো দিয়ে চলবে ইন্টারনেট। বার্লিনের ফ্রাউনহফার হাইনরিশ হারৎস ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা আলো ব্যবহার করে তারহীন তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তি ‘লাইফাই’ নামে পরিচিত। ইংরেজি ‘লাইট ফেডালিটি’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ এটি।

এলইডি ল্যাম্পের মাধ্যমে কাজ করে লাইফাই। এলইডি বাতি অত্যন্ত দ্রুত বন্ধ ও চালু করা যায়। রিসিভার ডিভাইসে থাকা সেন্সরগুলো সিগন্যাল গ্রহণ করে। সিগন্যাল ট্রান্সমিটারের গতি অনেক। লাইফাই অত্যন্ত বিস্তৃত স্পেকট্রাম ব্যবহার করে। আমাদের সিলিং লাইট থেকে তারহীন প্রযুক্তিতে তথ্য দ্রুত সরবরাহ করা যায়।

জ্বলতে থাকা সবুজ আলোগুলো শুধু ডিজাইন উপকরণ হিসেবে কাজ করছে। বার্লিনের বিজ্ঞানীরা এই ডিভাইসগুলো তৈরি করেছেন। এই অপটিক্যাল তারহীন ব্যবস্থা কাজ করার ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হচ্ছে- তথ্যে প্রেরণ আর গ্রহণ করার যন্ত্রের মধ্যে ভিজ্যুয়াল সংযোগ। আলোর সূত্র যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে সিগন্যাল পাওয়া যাবে না। তথ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

উনহফার হাইনরিশ হারৎস ইন্সটিটিউটের আনাগ্নোস্টিস পারাস্কেভোপিওস বলেন, অপটিক্যাল ডেটা কানেকশনের একটি সুবিধা হচ্ছে এটাকে সহজেই এক ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। কারণ অন্য ব্যবস্থায় ঘরের বাইরে থাকা ডিভাইসও একই তথ্য গ্রহণ করার সুযোগ থেকে যায়।

তথ্য সরবরাহের এই ব্যবস্থায় বাইরে থেকে বিঘ্ন ঘটানো সম্ভব নয়। আলোভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির রিসিভার হচ্ছে বাক্সটি।

পাশাপাশি অন্যান্য লাইফাই ডিভাইসগুলোকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে অন্তত একটি সবসময় রিসিভারের দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকে। ফলে রোবটটি সার্বক্ষণিক নড়াচড়ার মধ্যে থাকলেও তথ্য সরবরাহ কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।

আনাগ্নোস্টিস বলেন, এই প্রযুক্তি প্রথমে একটি শিল্পখাতে প্রয়োগ করা উচিত। কেননা সেখানেই এটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারি এবং একইসঙ্গে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আরো সুযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আলোর মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের এই ব্যবস্থা আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মেও ব্যবহার করা যাবে। যেমন মিউজিয়াম এবং গণপরিবহনে এটা কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে এমন পরিবেশে যেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষ রয়েছে কিংবা যেখানে সাধারণ তারহীন প্রযুক্তি ব্যবহারে জটিলতা রয়েছে। তবে, সেসবের আগে বেশি কিছু সমস্যাও সমাধান করতে হবে। গবেষকরা আগামী তিন বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের আশা করছেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন

আলোতে চলবে ইন্টারনেট!

আপডেট সময়: ০৯:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : অপটিক্যাল তারহীন আলো দিয়ে চলবে ইন্টারনেট। বার্লিনের ফ্রাউনহফার হাইনরিশ হারৎস ইন্সটিটিউটের এই গবেষকরা আলো ব্যবহার করে তারহীন তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। এই প্রযুক্তি ‘লাইফাই’ নামে পরিচিত। ইংরেজি ‘লাইট ফেডালিটি’ শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ এটি।

এলইডি ল্যাম্পের মাধ্যমে কাজ করে লাইফাই। এলইডি বাতি অত্যন্ত দ্রুত বন্ধ ও চালু করা যায়। রিসিভার ডিভাইসে থাকা সেন্সরগুলো সিগন্যাল গ্রহণ করে। সিগন্যাল ট্রান্সমিটারের গতি অনেক। লাইফাই অত্যন্ত বিস্তৃত স্পেকট্রাম ব্যবহার করে। আমাদের সিলিং লাইট থেকে তারহীন প্রযুক্তিতে তথ্য দ্রুত সরবরাহ করা যায়।

জ্বলতে থাকা সবুজ আলোগুলো শুধু ডিজাইন উপকরণ হিসেবে কাজ করছে। বার্লিনের বিজ্ঞানীরা এই ডিভাইসগুলো তৈরি করেছেন। এই অপটিক্যাল তারহীন ব্যবস্থা কাজ করার ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হচ্ছে- তথ্যে প্রেরণ আর গ্রহণ করার যন্ত্রের মধ্যে ভিজ্যুয়াল সংযোগ। আলোর সূত্র যদি বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে সিগন্যাল পাওয়া যাবে না। তথ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

উনহফার হাইনরিশ হারৎস ইন্সটিটিউটের আনাগ্নোস্টিস পারাস্কেভোপিওস বলেন, অপটিক্যাল ডেটা কানেকশনের একটি সুবিধা হচ্ছে এটাকে সহজেই এক ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। কারণ অন্য ব্যবস্থায় ঘরের বাইরে থাকা ডিভাইসও একই তথ্য গ্রহণ করার সুযোগ থেকে যায়।

তথ্য সরবরাহের এই ব্যবস্থায় বাইরে থেকে বিঘ্ন ঘটানো সম্ভব নয়। আলোভিত্তিক এই ইন্টারনেট ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির রিসিভার হচ্ছে বাক্সটি।

পাশাপাশি অন্যান্য লাইফাই ডিভাইসগুলোকে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে অন্তত একটি সবসময় রিসিভারের দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকে। ফলে রোবটটি সার্বক্ষণিক নড়াচড়ার মধ্যে থাকলেও তথ্য সরবরাহ কোনো বিঘ্ন ঘটছে না।

আনাগ্নোস্টিস বলেন, এই প্রযুক্তি প্রথমে একটি শিল্পখাতে প্রয়োগ করা উচিত। কেননা সেখানেই এটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারি এবং একইসঙ্গে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আরো সুযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আলোর মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের এই ব্যবস্থা আমাদের নিত্যদিনের কাজকর্মেও ব্যবহার করা যাবে। যেমন মিউজিয়াম এবং গণপরিবহনে এটা কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে এমন পরিবেশে যেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষ রয়েছে কিংবা যেখানে সাধারণ তারহীন প্রযুক্তি ব্যবহারে জটিলতা রয়েছে। তবে, সেসবের আগে বেশি কিছু সমস্যাও সমাধান করতে হবে। গবেষকরা আগামী তিন বছরের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের আশা করছেন।