ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অবসরে’ সূর্য, পৃথিবীবাসীর কপালে যা আছে!

  • আপডেট সময়: ০৬:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০
  • ২০৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সূর্য এখন সবচেয়ে কম সক্রিয়। নক্ষত্রটি যে ‘সোলার মিনিমাম’-এর দিকে এগিয়েছে, তা অনেকেরই জানা। বিষয়টা শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কারণও আছে; বলা হচ্ছে- এতে নাকি পৃথিবীর বড় কোনো ক্ষতি হতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় সোলার মিনিমামের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক স্থাপন করা খুবই কঠিন।

এই সময়কে অনেকে সূর্যের অবসরকালও বলে থাকেন। মূলত সূর্যের তাপ উৎপাদন কার্যক্রমে একটু ভাটা পড়াকেই সোলার মিনিমাম বলা হয়। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি ১১ বছর পর সোলার মিনিমাম হয়ে থাকে। এটি ন্যূনতম ছয় মাস স্থায়ী হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নক্ষত্র সবসময় একইভাবে কাজ করে না। কখনো এর সক্রিয়তা বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, আবার কখনো তা কমতে কমতে চলে আসে ‘অবসরকালে’। তবে এরইমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, এর ফলে পৃথিবীর জলবায়ুতে বড় পরিবর্তন আসছে। এমনকি তুষারপাত, ভূমিকম্প ও দুর্ভিক্ষ হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন এসব বিষয়ে।

অবশ্য এমন আশঙ্কারও কারণ রয়েছে, ১৮১৬ সালে একটি সোলার মিনিমামের সময় প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিল। এমনকি সে বছর পৃথিবীর অনেক প্রান্তে গ্রীষ্ম আসেনি। এছাড়া ১৬৫০ থেকে ১৭১৫ সালের মধ্যে কোনো একসময় সূর্যের এবারের মতোই অবসরকাল এসেছিল। তার প্রভাবে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে সামান্য হলেও বরফযুগ ফিরে এসেছিল। এবার এমনটা হবে না।

বিভিন্ন গবেষণায় জানা যায়, এসব বিষয়গুলো কেবলই কাকতালীয় ছিল। এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার টাম্বোরা আগ্নেয়গিরিতে প্রবল অগ্নুৎপাতের কারণে। এসবের সঙ্গে সোলার মিনিমামের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সোলার মিনিমাম চলাকালে সূর্যের কার্যক্রম অনেকাংশেই শান্ত হয়ে আসে। ফলে সূর্যের বহিরাবরণে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি গাঢ় দাগও কমে যায় অনেক। কমে যায় শক্তির বিচ্ছুরণও। এর জন্য অবশ্য কিছু সমস্যা হয়। তবে সেটা পৃথিবীর দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তবে নভোচারীদের জন্য সোলার মিনিমাম এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ক্ষতিকর রশ্মির পরিমাণ বাড়তে পারে।

এবারের সোলার মিনিমামের ফলে তাপমাত্রায় পরিবর্তন ঘটলেও সেটি পৃথিবীতে অনুভূতই হবে না বলেই ধারনা করছেন বৈজ্ঞানিকরা। কারণ আমাদের কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রার অবস্থা এতটাই উষ্ণ যে, সোলার মিনিমামের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার তারতম্য অনুভব করতে হলে তা স্থায়ী হতে হবে প্রায় একশ’ বছর!

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

‘অবসরে’ সূর্য, পৃথিবীবাসীর কপালে যা আছে!

আপডেট সময়: ০৬:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সূর্য এখন সবচেয়ে কম সক্রিয়। নক্ষত্রটি যে ‘সোলার মিনিমাম’-এর দিকে এগিয়েছে, তা অনেকেরই জানা। বিষয়টা শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলেও এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ার কারণও আছে; বলা হচ্ছে- এতে নাকি পৃথিবীর বড় কোনো ক্ষতি হতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় সোলার মিনিমামের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক স্থাপন করা খুবই কঠিন।

এই সময়কে অনেকে সূর্যের অবসরকালও বলে থাকেন। মূলত সূর্যের তাপ উৎপাদন কার্যক্রমে একটু ভাটা পড়াকেই সোলার মিনিমাম বলা হয়। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতি ১১ বছর পর সোলার মিনিমাম হয়ে থাকে। এটি ন্যূনতম ছয় মাস স্থায়ী হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নক্ষত্র সবসময় একইভাবে কাজ করে না। কখনো এর সক্রিয়তা বাড়তে বাড়তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, আবার কখনো তা কমতে কমতে চলে আসে ‘অবসরকালে’। তবে এরইমধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে, এর ফলে পৃথিবীর জলবায়ুতে বড় পরিবর্তন আসছে। এমনকি তুষারপাত, ভূমিকম্প ও দুর্ভিক্ষ হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন এসব বিষয়ে।

অবশ্য এমন আশঙ্কারও কারণ রয়েছে, ১৮১৬ সালে একটি সোলার মিনিমামের সময় প্রবল ভূমিকম্প হয়েছিল। এমনকি সে বছর পৃথিবীর অনেক প্রান্তে গ্রীষ্ম আসেনি। এছাড়া ১৬৫০ থেকে ১৭১৫ সালের মধ্যে কোনো একসময় সূর্যের এবারের মতোই অবসরকাল এসেছিল। তার প্রভাবে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে সামান্য হলেও বরফযুগ ফিরে এসেছিল। এবার এমনটা হবে না।

বিভিন্ন গবেষণায় জানা যায়, এসব বিষয়গুলো কেবলই কাকতালীয় ছিল। এর মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার টাম্বোরা আগ্নেয়গিরিতে প্রবল অগ্নুৎপাতের কারণে। এসবের সঙ্গে সোলার মিনিমামের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সোলার মিনিমাম চলাকালে সূর্যের কার্যক্রম অনেকাংশেই শান্ত হয়ে আসে। ফলে সূর্যের বহিরাবরণে অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি গাঢ় দাগও কমে যায় অনেক। কমে যায় শক্তির বিচ্ছুরণও। এর জন্য অবশ্য কিছু সমস্যা হয়। তবে সেটা পৃথিবীর দৈনন্দিন জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তবে নভোচারীদের জন্য সোলার মিনিমাম এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ক্ষতিকর রশ্মির পরিমাণ বাড়তে পারে।

এবারের সোলার মিনিমামের ফলে তাপমাত্রায় পরিবর্তন ঘটলেও সেটি পৃথিবীতে অনুভূতই হবে না বলেই ধারনা করছেন বৈজ্ঞানিকরা। কারণ আমাদের কার্বন নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রার অবস্থা এতটাই উষ্ণ যে, সোলার মিনিমামের ফলে সৃষ্ট তাপমাত্রার তারতম্য অনুভব করতে হলে তা স্থায়ী হতে হবে প্রায় একশ’ বছর!