ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিমন্দির থেকে প্রতিনিধিকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ১ লাখ টাকা দাবির নেপথ্যে স্থানীয় মাতব্বরদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময়: ০৭:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,ঢাকা অফিস:নবাবগঞ্জে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এবার এক ব্যক্তিকে কালিমন্দির এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, মেম্বার সুকুর আলীসহ কয়েকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ভাগ্নে ১ লক্ষ টাকা আগামী এক মাসে মধ্যে মধ্যে পরিশোধ করবে মর্মে তাকে মুক্ত করে।

ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এক তরুণকে লিবিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে ওই তরুণ প্রায় আড়াই বছর কাজ করেন। এবং ওই দেশে আকাম ও করাইয়া দেন, পরে দেশে ফিরে এসে তার কাছে টাকা অন্যায় ভাবে দাবি করা হয়। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের মাধ্যমে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে নিলুশিল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে পুলিশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন একই পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি—যাদের মধ্যে সুকুর আলী মেম্বার, জিয়া মেম্বার এবং বান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সজিবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—সমন্বিতভাবে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।প্রায় এক মাস আগে ১ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে উল্লেখিত মাতব্বর রা একতরফা সালিশ করেন উল্লেখিত সালিশে ভুক্তভোগের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।

কালিমন্দির থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আজ বিকেলে কালিমন্দির এলাকা থেকে সুকুর আলী মেম্বার তাকে নিয়ে যান। এরপর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে—তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাকে শুধু টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে না; বরং স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল তাকে এলাকায় টিকতে না দেওয়া বা উচ্ছেদ করার জন্যও তৎপর হয়ে উঠেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন মাতব্বর পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপে রাখছেন। ফলে ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধটি এখন প্রভাব খাটানো, ভয়ভীতি এবং জোর করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

৫০ হাজার টাকার অভিযোগের পর নতুন করে এক লাখ টাকার চাপ? এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে—আগের ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান এক লাখ টাকা দাবির কোনো যোগসূত্র আছে কি না। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে পুলিশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই তাদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এখন আবার একই ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং বর্তমান এক লাখ টাকা দাবির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, সুকুর আলী মেম্বার, নিলুশিল, জিয়া মেম্বার ও সজিবর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রশ্নের মুখে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা
ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত টাকা-পয়সার বিরোধ, নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একজনকে চাপ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা—তা তদন্তের দাবি রাখে।

বিশেষ করে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্য স্থান থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন নাকি চাপ প্রয়োগ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হয়েছে, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কোনো অর্থ দাবি বা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা জরুরি।
অভিযোগকারী পক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রেকর্ডটির বক্তব্য, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

লোকসমাচার-এর অনুসন্ধানে এখন মূল প্রশ্ন—একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত লেনদেনের বিরোধ কীভাবে স্থানীয় মাতব্বরদের প্রভাব, পুলিশে টাকা দেওয়ার অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা দাবির ঘটনায় রূপ নিল?
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করবে লোকসমাচার।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

কালিমন্দির থেকে প্রতিনিধিকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ১ লাখ টাকা দাবির নেপথ্যে স্থানীয় মাতব্বরদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময়: ০৭:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,ঢাকা অফিস:নবাবগঞ্জে পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এবার এক ব্যক্তিকে কালিমন্দির এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, মেম্বার সুকুর আলীসহ কয়েকজন তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ভাগ্নে ১ লক্ষ টাকা আগামী এক মাসে মধ্যে মধ্যে পরিশোধ করবে মর্মে তাকে মুক্ত করে।

ভুক্তভোগী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এক তরুণকে লিবিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে ওই তরুণ প্রায় আড়াই বছর কাজ করেন। এবং ওই দেশে আকাম ও করাইয়া দেন, পরে দেশে ফিরে এসে তার কাছে টাকা অন্যায় ভাবে দাবি করা হয়। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের মাধ্যমে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর মধ্যে নিলুশিল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে পুলিশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন একই পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি—যাদের মধ্যে সুকুর আলী মেম্বার, জিয়া মেম্বার এবং বান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সজিবর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—সমন্বিতভাবে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।প্রায় এক মাস আগে ১ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে উল্লেখিত মাতব্বর রা একতরফা সালিশ করেন উল্লেখিত সালিশে ভুক্তভোগের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি।

কালিমন্দির থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, আজ বিকেলে কালিমন্দির এলাকা থেকে সুকুর আলী মেম্বার তাকে নিয়ে যান। এরপর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে—তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাকে শুধু টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে না; বরং স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল তাকে এলাকায় টিকতে না দেওয়া বা উচ্ছেদ করার জন্যও তৎপর হয়ে উঠেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন মাতব্বর পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপে রাখছেন। ফলে ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধটি এখন প্রভাব খাটানো, ভয়ভীতি এবং জোর করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

৫০ হাজার টাকার অভিযোগের পর নতুন করে এক লাখ টাকার চাপ? এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে—আগের ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান এক লাখ টাকা দাবির কোনো যোগসূত্র আছে কি না। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে পুলিশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই তাদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এখন আবার একই ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।

তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং বর্তমান এক লাখ টাকা দাবির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, সুকুর আলী মেম্বার, নিলুশিল, জিয়া মেম্বার ও সজিবর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা প্রয়োজন।

প্রশ্নের মুখে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা
ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত টাকা-পয়সার বিরোধ, নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একজনকে চাপ দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা—তা তদন্তের দাবি রাখে।

বিশেষ করে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্য স্থান থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন নাকি চাপ প্রয়োগ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কোথায় নেওয়া হয়েছে, কারা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে কোনো অর্থ দাবি বা ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা জরুরি।
অভিযোগকারী পক্ষের কাছে এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রেকর্ডটির বক্তব্য, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

লোকসমাচার-এর অনুসন্ধানে এখন মূল প্রশ্ন—একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত লেনদেনের বিরোধ কীভাবে স্থানীয় মাতব্বরদের প্রভাব, পুলিশে টাকা দেওয়ার অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা দাবির ঘটনায় রূপ নিল?
অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করবে লোকসমাচার।