ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিয়াল ঠেকাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, প্রাণ গেল মানুষের মণিরামপুরে খোলা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে বৃদ্ধের মৃত্যু—নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ জন দেখেছে
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,যশোর:যশোরের মণিরামপুরে শিয়ালের উপদ্রব ঠেকাতে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মশিয়ার রহমান মোড়ল বলে স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৬৫ ও ৬৭ বছর বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শিয়ালের উৎপাত ঠেকাতে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। সকালে মশিয়ার রহমান বাঁশ কাটতে সেখানে গেলে অসাবধানতাবশত ওই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

ফাঁদ, নাকি মৃত্যুর ঝুঁকি?

শিয়ালের উপদ্রব থেকে হাঁস-মুরগি বা গৃহপালিত প্রাণী রক্ষার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হলেও এমন ব্যবস্থা মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দিনের বেলায়ও যদি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয় এবং ফাঁদের অবস্থান সম্পর্কে আশপাশের মানুষকে সতর্ক করা না হয়, তাহলে যে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সকালে ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা অবস্থায় বাঁশঝাড়ে যাওয়ার পর মশিয়ার রহমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের দাবি

এই মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে—লোকালয়ে মানুষের চলাচলের পাশে এ ধরনের বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল কি না, কে বা কারা সেটি স্থাপন করেছিলেন, সেখানে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ কেন চালু ছিল।
শুধু একটি পরিবারের শোক হিসেবে ঘটনাটিকে দেখলে এর প্রকৃত কারণ ও দায়ের প্রশ্নটি আড়ালে থেকে যেতে পারে। তাই ঘটনাটি তদন্ত করে বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী ফাঁদ বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী—তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

দৈনিক লোকসমাচার-এর অনুসন্ধান:
ঘটনাস্থলে বৈদ্যুতিক ফাঁদটি ঠিক কোথায় ছিল, কে এটি স্থাপন করেছিলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের উৎস কী ছিল এবং দুর্ঘটনার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

শিয়াল ঠেকাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, প্রাণ গেল মানুষের মণিরামপুরে খোলা বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে বৃদ্ধের মৃত্যু—নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময়: ০৯:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক,যশোর:যশোরের মণিরামপুরে শিয়ালের উপদ্রব ঠেকাতে পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মশিয়ার রহমান মোড়ল বলে স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৬৫ ও ৬৭ বছর বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, শিয়ালের উৎপাত ঠেকাতে একটি বাঁশঝাড়ের পাশে বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়েছিল। সকালে মশিয়ার রহমান বাঁশ কাটতে সেখানে গেলে অসাবধানতাবশত ওই বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

ফাঁদ, নাকি মৃত্যুর ঝুঁকি?

শিয়ালের উপদ্রব থেকে হাঁস-মুরগি বা গৃহপালিত প্রাণী রক্ষার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতা হলেও এমন ব্যবস্থা মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দিনের বেলায়ও যদি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয় এবং ফাঁদের অবস্থান সম্পর্কে আশপাশের মানুষকে সতর্ক করা না হয়, তাহলে যে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সকালে ওই বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা অবস্থায় বাঁশঝাড়ে যাওয়ার পর মশিয়ার রহমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

পুলিশের বক্তব্য

ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের দাবি

এই মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে—লোকালয়ে মানুষের চলাচলের পাশে এ ধরনের বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছিল কি না, কে বা কারা সেটি স্থাপন করেছিলেন, সেখানে কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ কেন চালু ছিল।
শুধু একটি পরিবারের শোক হিসেবে ঘটনাটিকে দেখলে এর প্রকৃত কারণ ও দায়ের প্রশ্নটি আড়ালে থেকে যেতে পারে। তাই ঘটনাটি তদন্ত করে বৈদ্যুতিক ফাঁদ স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী ফাঁদ বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী—তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

দৈনিক লোকসমাচার-এর অনুসন্ধান:
ঘটনাস্থলে বৈদ্যুতিক ফাঁদটি ঠিক কোথায় ছিল, কে এটি স্থাপন করেছিলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের উৎস কী ছিল এবং দুর্ঘটনার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ।