ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

  • আপডেট সময়: ০৮:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, এটিইউ এর সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে যোগ দেন। সে বছরের ১৭-২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে সারদা ত্যাগ করেন। তবে ছুটি ভোগ শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ছুটি শেষেও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।

পলাশ রঞ্জন দে গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দেননি। বরখাস্তের আদেশটি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এর আগে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে বছরের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড গমনের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষেও না ফেরায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ৪ নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার বরখাস্তের আদেশের কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। প্রজ্ঞাপনে ২ নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার বরখাস্তের আদেশের কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

আপডেট সময়: ০৮:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, এটিইউ এর সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস এবং সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহীতে যোগ দেন। সে বছরের ১৭-২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে সারদা ত্যাগ করেন। তবে ছুটি ভোগ শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ছুটি শেষেও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।

পলাশ রঞ্জন দে গত বছরের ১২ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দেননি। বরখাস্তের আদেশটি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এর আগে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে বছরের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড গমনের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষেও না ফেরায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ৪ নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার বরখাস্তের আদেশের কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। প্রজ্ঞাপনে ২ নভেম্বর ২০২৪ থেকে তার বরখাস্তের আদেশের কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।