লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের অভয়নগরে আলোচিত বাহারুল মল্লিক হত্যা মামলায় রমজান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার রমজানের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণডিহি গ্রামের একটি বাগানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তল, একটি দেশীয় একনলা ওয়ান শুটারগান এবং সাত রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রমজান খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের মিনারুল ইসলামের ছেলে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
যেভাবে শুরু হয় তদন্ত পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর অভয়নগয় উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের রানাগাতী গ্রামের একটি বাগান থেকে বাহারুল মল্লিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বিল্লাল মল্লিক বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মামলাটির নম্বর ১০ এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফুল আশা ওরফে আশরাফ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় রমজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল অস্ত্র
পুলিশ জানিয়েছে, রমজানের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ফুলতলার দক্ষিণডিহি গ্রামের সোবহান সরদারের বাঁশবাগানের পশ্চিম পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তল এবং একটি দেশীয় তৈরি একনলা ওয়ান শুটারগান। এর সঙ্গে সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা পিস্তলটি সচল অবস্থায় ছিল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তদন্ত এখন কোন দিকে?
পুলিশ বলছে, বাহারুল মল্লিক হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং অস্ত্রগুলো কীভাবে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্ত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ বা কার কী ভূমিকা ছিল—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পুলিশের বক্তব্য ও মামলার তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী তথ্য স্পষ্ট হবে।
দৈনিক লোকসমাচারের পক্ষ থেকে: মামলাটি তদন্তাধীন হওয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


























