ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলের গেজেট কবে, আলোচনায় একাধিক তারিখ

  • আপডেট সময়: ১০:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দফায় দফায় গেজেট জারির সময় পেছানো হলেও নতুন করে একাধিক তারিখ আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই গেজেট জারি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি মাসেই গেজেট জারি করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক কাঠামোয় এই কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে।

সূত্রের তথ্য বলছে, নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির জন্য একাধিক সম্ভাব্য সময় বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলে ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট জারি করা হতে পারে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পে-স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট জারির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে সরকার। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন সাবেক আমলারা।

কার কত বেতন বাড়ছে?

এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন যে বেতন কাঠামো পাচ্ছেন, সেখানে তাদের অনেকে বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে একশো শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ তাদের বেতন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ হচ্ছে।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম গ্রেডে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর তাদের মূল বেতন দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারিত হয়েছে সর্বোচ্চ এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই পে-স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই মাস হিসাবে ধরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমন বেতন-ভাতা দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

যেভাবে এলো নতুন পে-স্কেল

এর আগে, ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় তারেক রহমানের সরকার।

সূত্র: নিউজ টুয়েন্টি ফোর

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

পে-স্কেলের গেজেট কবে, আলোচনায় একাধিক তারিখ

আপডেট সময়: ১০:৩৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দফায় দফায় গেজেট জারির সময় পেছানো হলেও নতুন করে একাধিক তারিখ আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুতই গেজেট জারি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি মাসেই গেজেট জারি করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক কাঠামোয় এই কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে।

সূত্রের তথ্য বলছে, নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির জন্য একাধিক সম্ভাব্য সময় বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলে ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট জারি করা হতে পারে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পে-স্কেলের গেজেট জারির দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একাধিক সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট জারির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।’

গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে সরকার। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সেটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন সাবেক আমলারা।

কার কত বেতন বাড়ছে?

এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন যে বেতন কাঠামো পাচ্ছেন, সেখানে তাদের অনেকে বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে একশো শতাংশ পর্যন্ত। অর্থাৎ তাদের বেতন এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ হচ্ছে।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন গ্রেড বা ২০তম গ্রেডে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর তাদের মূল বেতন দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন নির্ধারিত হয়েছে সর্বোচ্চ এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই পে-স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোটি চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই মাস হিসাবে ধরেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এমন বেতন-ভাতা দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

যেভাবে এলো নতুন পে-স্কেল

এর আগে, ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।

বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় তারেক রহমানের সরকার।

সূত্র: নিউজ টুয়েন্টি ফোর