ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীদের গণ-অনশন: মনিরামপুরে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক ইকরামুল আটক

  • আপডেট সময়: ০৭:০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৭২ জন দেখেছে
Spread the love

ফারুক,ষ্টাফ রিপোর্টার:মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশ আটক করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার অনৈতিক দাবিতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি।

লোকলজ্জা ও হুমকির মুখে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীই বাধ্য হয়ে তার অন্যায় দাবি সহ্য করত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তবে প্রধান শিক্ষক এতে কোনো কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন কোনো সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে।সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ওই শিক্ষককে কক্ষে অবরুদ্ধ করে সব ধরনের ক্লাস বর্জন করে অনশন শুরু করে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফফর হোসেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। পরে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

ছাত্রীদের গণ-অনশন: মনিরামপুরে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক ইকরামুল আটক

আপডেট সময়: ০৭:০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

ফারুক,ষ্টাফ রিপোর্টার:মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশ আটক করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের একাধিক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার অনৈতিক দাবিতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন তিনি।

লোকলজ্জা ও হুমকির মুখে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীই বাধ্য হয়ে তার অন্যায় দাবি সহ্য করত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। তবে প্রধান শিক্ষক এতে কোনো কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন কোনো সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে।সোমবার সকালে শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ওই শিক্ষককে কক্ষে অবরুদ্ধ করে সব ধরনের ক্লাস বর্জন করে অনশন শুরু করে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফফর হোসেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। পরে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে তার ছোট ছেলে এনজেল পারভেজ রিফাত বাদী হয়ে শিক্ষক ইকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখা ও অনশনের খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য শুনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।