ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

  • আপডেট সময়: ১০:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১১৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বর্ষপঞ্জির পাতায় আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও প্রকৃতিতে আষাঢ়ের বৃষ্টির দেখা নেই। দু’একদিন সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি মেলেনি। মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে শনিবার (২০ জুন) যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত প্রায় দেড় মাস ধরেই যশোরে টানা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার যশোর জেলায় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা দেশের সর্বোচ্চ। এর আগে ১৭ জুন এই জেলায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওইদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য কমে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। এর বাইরে গত প্রায় দেড় মাস ধরে অধিকাংশ দিনই এই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। ফলে দু-একদিন বৃষ্টি হলে সামান্য সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমলেও তাতে পরিস্থিতির কোনো উত্তরণ হয়নি।

এদিকে গ্রীষ্মের পর ঋতুচক্রে বর্ষার আবির্ভাব হলেও প্রকৃতিতে বৃষ্টির দেখা না মেলায় তাপপ্রবাহে গোটা যশোরাঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে মরুর উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলে আগুনের মতো গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে হাঁটলেও গরম বাতাস শরীর ঝলসে যাচ্ছে। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবত, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন।

যশোর শহরের রায়পাড়া এলাকার রিকশা চালক আলম হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে গরম একটু কমে। কিন্তু বৃষ্টি থামলেই আবার গরম বাড়ে। এই ঠান্ডা-গরমে সুস্থ থাকাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রিকশা চালালেই গা ঘেমে ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে। যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক জামাল উদ্দিন বলেন, গরমে রিকশা চালালে গায়ে যেনো আগুনের মতো তাপ লাগে। তারপরও রিকশা চালাতে হচ্ছে।

যশোর শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার ডাব বিক্রেতা কলিম উদ্দিন জানান, গরমে অনেক মানুষ ডাব খেতে আসছে। কিন্তু গরমে ডাবের পানিও যেনো গরম হয়ে যাচ্ছে। আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডাবের দামও বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে গ্রাম থেকে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩০ জুনে যশোরে ব্যারোমিটারের পারদ চড়েছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে ১৮ মে। সেদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন

আজ যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

আপডেট সময়: ১০:৫১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বর্ষপঞ্জির পাতায় আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চললেও প্রকৃতিতে আষাঢ়ের বৃষ্টির দেখা নেই। দু’একদিন সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি মেলেনি। মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে শনিবার (২০ জুন) যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত প্রায় দেড় মাস ধরেই যশোরে টানা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার যশোর জেলায় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা দেশের সর্বোচ্চ। এর আগে ১৭ জুন এই জেলায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ওইদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য কমে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। এর বাইরে গত প্রায় দেড় মাস ধরে অধিকাংশ দিনই এই জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। ফলে দু-একদিন বৃষ্টি হলে সামান্য সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমলেও তাতে পরিস্থিতির কোনো উত্তরণ হয়নি।

এদিকে গ্রীষ্মের পর ঋতুচক্রে বর্ষার আবির্ভাব হলেও প্রকৃতিতে বৃষ্টির দেখা না মেলায় তাপপ্রবাহে গোটা যশোরাঞ্চলের প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে মরুর উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলে আগুনের মতো গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খোলা আকাশের নিচে হাঁটলেও গরম বাতাস শরীর ঝলসে যাচ্ছে। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবত, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন।

যশোর শহরের রায়পাড়া এলাকার রিকশা চালক আলম হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে গরম একটু কমে। কিন্তু বৃষ্টি থামলেই আবার গরম বাড়ে। এই ঠান্ডা-গরমে সুস্থ থাকাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রিকশা চালালেই গা ঘেমে ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে। যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক জামাল উদ্দিন বলেন, গরমে রিকশা চালালে গায়ে যেনো আগুনের মতো তাপ লাগে। তারপরও রিকশা চালাতে হচ্ছে।

যশোর শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকার ডাব বিক্রেতা কলিম উদ্দিন জানান, গরমে অনেক মানুষ ডাব খেতে আসছে। কিন্তু গরমে ডাবের পানিও যেনো গরম হয়ে যাচ্ছে। আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডাবের দামও বেড়ে গেছে। বাড়তি দামে গ্রাম থেকে কিনে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৩০ জুনে যশোরে ব্যারোমিটারের পারদ চড়েছিল ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালে ১৮ মে। সেদিন রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেলে অতিতীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।