ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গর্তে ঢুকিয়ে ‘নারীকে’ পুড়িয়ে হত্যার কারণ জানা গেল

  • আপডেট সময়: ০৮:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১০৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় গর্তে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হরলুজা (৫০) নামের এক নারীর মরদেহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রনি নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজার এলাকা থেকে ওই নারীর পোড়া দেহ এবং বেলা ৩টার দিকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমে বাধা দেওয়ার জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুবকের নাম ফারহান ভূঁইয়া রনি। তিনি এলাকার দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানুর ছেলে রনি। তিনি এলাকায় মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। হরলুজা একই ইউনিয়নের হিরাপুর কলোনি এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই দম্পতির তিন মেয়ে আছে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার গাজীর বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে রাজহাঁস চুরি হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হাঁস খুঁজতে এসে শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার জায়গায় পরিত্যক্ত টিনের ভাঙ্গা ঘর থেকে ধোঁয়ার গন্ধ পান তিনি। কিসের ধোঁয়া জানতে চাইলে সেখানে থাকা ফারহান রনি জানান যে তিনি পাতা পোড়াচ্ছেন। এ কথায় বিশ্বাস না হলে হাঁসের মালিক দুই ভাই এনামুল ও রোমান এবং তাদের চাচাতো ভাই উবায়দুল ঘরের ভেতরে কি দেখতে চান। এ সময় ফারহান ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারার হুমকি দেন। এতে সন্দেহ হলে তারাসহ গ্রামের লোকজন গিয়ে গর্তে পুড়তে থাকা লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ বের করে।

ওই নারীর পুরো শরীর পুড়ে যাওয়ায় এবং দেহে মাথা না থাকার কারণে প্রথমে লাশের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারেনি পুলিশ। পোড়া হাতে চুড়ি থাকায় দেহটি প্রাথমিকভাবে নারীর বলে ধারণা করা হয়। দুপুরে মাথা উদ্ধারের পর তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে রনিকে আটক করা হয়। আটক ওই যুবকের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে পুকুরের পাশের একটি ফসলি জমি খনন করে মাটির নিচ থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমে বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে তার দেহ থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করা হয়। মরদেহ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করছিলেন রনি।’

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গর্তে ঢুকিয়ে ‘নারীকে’ পুড়িয়ে হত্যার কারণ জানা গেল

আপডেট সময়: ০৮:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় গর্তে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হরলুজা (৫০) নামের এক নারীর মরদেহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রনি নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজার এলাকা থেকে ওই নারীর পোড়া দেহ এবং বেলা ৩টার দিকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমে বাধা দেওয়ার জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার যুবকের নাম ফারহান ভূঁইয়া রনি। তিনি এলাকার দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া শানুর ছেলে রনি। তিনি এলাকায় মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। হরলুজা একই ইউনিয়নের হিরাপুর কলোনি এলাকার নুরুল ইসলামের স্ত্রী। এই দম্পতির তিন মেয়ে আছে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার গাজীর বাজার এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে রাজহাঁস চুরি হয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে হাঁস খুঁজতে এসে শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার জায়গায় পরিত্যক্ত টিনের ভাঙ্গা ঘর থেকে ধোঁয়ার গন্ধ পান তিনি। কিসের ধোঁয়া জানতে চাইলে সেখানে থাকা ফারহান রনি জানান যে তিনি পাতা পোড়াচ্ছেন। এ কথায় বিশ্বাস না হলে হাঁসের মালিক দুই ভাই এনামুল ও রোমান এবং তাদের চাচাতো ভাই উবায়দুল ঘরের ভেতরে কি দেখতে চান। এ সময় ফারহান ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারার হুমকি দেন। এতে সন্দেহ হলে তারাসহ গ্রামের লোকজন গিয়ে গর্তে পুড়তে থাকা লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ বের করে।

ওই নারীর পুরো শরীর পুড়ে যাওয়ায় এবং দেহে মাথা না থাকার কারণে প্রথমে লাশের লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারেনি পুলিশ। পোড়া হাতে চুড়ি থাকায় দেহটি প্রাথমিকভাবে নারীর বলে ধারণা করা হয়। দুপুরে মাথা উদ্ধারের পর তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে রনিকে আটক করা হয়। আটক ওই যুবকের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনাস্থলের ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে পুকুরের পাশের একটি ফসলি জমি খনন করে মাটির নিচ থেকে মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমে বাধা দেওয়ায় ওই নারীকে তার দেহ থেকে মাথা আলাদা করে হত্যা করা হয়। মরদেহ পুড়িয়ে গুম করার চেষ্টা করছিলেন রনি।’