লোকসমাচার ডেস্ক:ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর নদী থেকে দুই সন্তানসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের কাশিডাঙ্গা গ্রামে তীরনই নদীর মিনি কক্সবাজার পশ্চিম ঘাটে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় মরদেহ নদী থেকে তোলা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় মায়ের শাড়ির আঁচল দিয়ে দুই শিশুসন্তানের শরীর বাঁধা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মৃত নারীর নাম নাছিমা বেগম (৩২)। তিনি কাশিপুর ইউনিয়নের কাশিডাঙ্গা গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী। মৃত দুই ছেলের নাম শাওন (৮) ও সেফাফাত (৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গুলফামুল ইসলাম।
মৃত নাসিমার মা খালেদা খাতুন এটিকে হত্যা দাবি করলেও নাসিমার স্বামী আবদুর রহিম ও শ্বশুর শামসুল হক আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
খালেদা বেগমের দাবি, তার জামাই জুয়া খেলে। জুয়ার টাকার জন্য আমার মেয়েকে প্রায়ই অত্যাচার করত। এ কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নদীর ধারে মরদেহ তিনটির হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনটি মরদেহই এক জায়গায় পাওয়া গেছে।
নাসিমার ভাই ফারুক আহমেদ জানান, নিখোঁজের দিন সকালে পারিবারিক কলহ থেকে নাসিমা ও তার দুই ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকে গরু না দেওয়ায় ঝগড়া শুরু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানান তিনি।
কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার নাছিমা দুই বাচ্চাসহ মাঠে গরু চরাতে যান। এ সময় নদীর পাশের মাঠে দুই ছেলে খেলছিল। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। আজ সকালে নদীতে তাদের লাশ ভেসে ওঠে।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি গুলফামুল ইসলাম মণ্ডল জানান, মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে রাগারাগি করে সন্তানদের নিয়ে নিখোঁজ হন। তাদের পরিবারের লোক আজকে সকালে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে মা ও দুই সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে তীরনই নদীতে।
রাণীশংকৈল সার্কেলর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























