ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম

  • আপডেট সময়: ১১:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • ১৬৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অধিক মুনাফার লোভে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে মূল্য বৃদ্ধি করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। সম্প্রতি ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পিয়াজ মজুত করে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়েছেন। এটা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

কোরআন-হাদিসে এসব অসাধু ব্যবসায়ীর ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের শাস্তির ব্যাপারে ইসলামি বিধান হলো- অপরাধ প্রমাণিত হলে মজুতকৃত পণ্য সরকার নিজের জিম্মায় নিয়ে নিলামে তুলে বিক্রি করে দিতে পারে। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি গবেষক আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত হঠাৎ করে রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলো। এটা কোনো সভ্য দেশের কাজ হতে পারে না। পিয়াজ সে দেশে ঘাটতি থাকলে বা কোনো সমস্যা হলে আগে থেকে বার্তা দেবে।

বলবে যে এই সমস্যার কারণে আমরা আপাতত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করছি। সেটা না করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা বন্ধ করলো। আর তাতে আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিলো। এটা নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ। এটা ইসলাম সমর্থন করে না।
হাদিসের রেফারেন্স টেনে আবদুল হাই সাইফুল্লাহ আরো বলেন, পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অবৈধ ও অভিশপ্ত সম্পদ আয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ। মুনাফা করা ইসলামে ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি হালাল করা হয়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের জিম্মি করে অর্থ উপার্জন ঘৃণ্য ও সভ্যতা বিবর্জিত। উপরন্তু এগুলো পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেন, কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন (ইবনে মাজাহ. আস সুনান)। অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সংকট তৈরি করে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী (মুসলিম আস সহীহ- হাদিস ১৬০৫)। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুত রাখে সে আল্লাহ প্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায় (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)। এই হাদিস বাসা বাড়ির খাদ্য মজুত নয় বরং দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটার নিয়তে মজুতকারী বোঝাতে রাসুল (সাঃ) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শায়খ সাইফুল্লাহ আরো বলেন, আল্লামা ইবনে হাজর (রাহি.) নিহায়াতুল মুহতাজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, গুদামজাত করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা কবিরা গুনাহ। অতএব মুসলিম ব্যবসায়ী হিসেবে এমন অপরাধমূলক কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম

আপডেট সময়: ১১:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অধিক মুনাফার লোভে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুতের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করে মূল্য বৃদ্ধি করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। সম্প্রতি ভারতের পিয়াজ রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পিয়াজ মজুত করে অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়েছেন। এটা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

কোরআন-হাদিসে এসব অসাধু ব্যবসায়ীর ব্যাপারে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের শাস্তির ব্যাপারে ইসলামি বিধান হলো- অপরাধ প্রমাণিত হলে মজুতকৃত পণ্য সরকার নিজের জিম্মায় নিয়ে নিলামে তুলে বিক্রি করে দিতে পারে। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপকালে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি গবেষক আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত হঠাৎ করে রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলো। এটা কোনো সভ্য দেশের কাজ হতে পারে না। পিয়াজ সে দেশে ঘাটতি থাকলে বা কোনো সমস্যা হলে আগে থেকে বার্তা দেবে।

বলবে যে এই সমস্যার কারণে আমরা আপাতত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করছি। সেটা না করে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা বন্ধ করলো। আর তাতে আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিলো। এটা নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ। এটা ইসলাম সমর্থন করে না।
হাদিসের রেফারেন্স টেনে আবদুল হাই সাইফুল্লাহ আরো বলেন, পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও সুযোগ নিয়ে এ ধরনের অবৈধ ও অভিশপ্ত সম্পদ আয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ। মুনাফা করা ইসলামে ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি হালাল করা হয়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের জিম্মি করে অর্থ উপার্জন ঘৃণ্য ও সভ্যতা বিবর্জিত। উপরন্তু এগুলো পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেন, কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন (ইবনে মাজাহ. আস সুনান)। অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সংকট তৈরি করে খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী (মুসলিম আস সহীহ- হাদিস ১৬০৫)। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুত রাখে সে আল্লাহ প্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায় (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)। এই হাদিস বাসা বাড়ির খাদ্য মজুত নয় বরং দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটার নিয়তে মজুতকারী বোঝাতে রাসুল (সাঃ) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শায়খ সাইফুল্লাহ আরো বলেন, আল্লামা ইবনে হাজর (রাহি.) নিহায়াতুল মুহতাজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, গুদামজাত করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা কবিরা গুনাহ। অতএব মুসলিম ব্যবসায়ী হিসেবে এমন অপরাধমূলক কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকা উচিত।