ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরামপুরে নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে!

  • আপডেট সময়: ০৮:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
  • ১৯৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুর জেলা কৃষি প্রধান অঞ্চল. এ জেলার অন্তগর্ত বিরামপুর উপজেলাটি শস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত, ধানের পাশাপাশি এ উপজেলার কৃষকের আগ্রহ সবজি চাষ। এক বিঘা জমিতে এক সাথে ৩/৪ প্রকার সবজি চাষ করা যায়, সার কম লাগে লাভ হয় বেশী।

ধানের তুলনায় সবজি চাষে খরচ কম, সবজি ওঠে এক দেড় মাসে। সময় কম লাগে পরিচর্চা কম করতে হয়। এ কারনে সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকের উৎপাদিত প্রধান খাদ্য ধান যে জমিতে হয়না সে সব উঁচু জমিতে কৃষকেরা সবজি চাষ করে লাভবান হচেছ।

বিরামপুর পৌর এলাকার মামুদপুর গ্রামের সবজি চাষী মামুনুর রশীদ, মাহমুদুল হাসান রিপন, মোজাম্মেল হক, জানান, তিনি দুই একর জমিতে সবজি চাষ করেছেন। (বিঘাপ্রতি) ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ করে এক সাথে ৩/৪ প্রকার সবজি চাষ করে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা সবজি বিক্রী করেছেন। ধানের বাজারের যে হাল ধান আবাদ করা তারা বাদ দিয়েছেন বলে জানান। লাভ বেশী হওয়ায় বড়ছে সবজি চাষ। মৌসুমে কোন কোন সময় সবজি দাম কম থাকলে আড়ৎদার দের কাছে পাইকারী দরে বিক্রী করে কৃষকেরা লাভের মুখ কম দেখলেও বেশী লাভবান হন আড়ৎদার কাম খুচরা ব্যবসায়ীরা।

বিরামপুরে যে সবজির দাম (কেজি প্রতি) ১০ টাকা বিক্রী হয়, ঐ সবজি ঢাকায় বিক্রী হয় ৩০ টাকা। এদিকে কৃষকদের সবজি ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ না করতে, বিরামপুর কৃষি অফিসের উদ্দ্যেগে চলছে (আইপিএম) পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করন।

জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ানের মধ্যে মুকুন্দপুর, কাঠলা, পলিপ্রয়াগপুর ও বিরামপুর পৌর এলাকাধীন শত শত একর অনাবাদী জমিতে কৃষকেরা চাষ করছে সবজি। শাক-সবজি উৎপাদন এবং পরিবেশ বান্ধব মানব দেহে ক্ষতি করে না, বালাই নাশক ঔষুধ সবজি ক্ষেতে প্রযোগ না করতে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি বিশেষ করে, করলা, ঢেড়স, বেগুন, শসা, পটল, ঝিংগা, টমেটো, লাউ, কুমড়া, পাটশাক, লা”ছা-শাক পুঁইশাক ঐ পদ্ধতিতে চাষ করছেন।

সবজি ক্ষেতের পোকা মাকড় দমনের জন্য কৃষি প্রযুক্তি অন্যতম, সেফ ফেরোমন ফাঁদ, জৈবীক বালাই নাশক কান্ড, নিরবি সিভিল, ভার্মিকম্পোস সার ব্যবহার করে চাষীরা সবজি চাষ করছেন।

বিরামপুরের নতুন বাজার ”সবজি হাটি” নামক কাচা বাজারটি পাইকাদের কাছে বহুল পরিচিত।
বিরামপুর নতুন বাজার কাঁচা মালের মোকাম থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার কাচা মাল কাম – সবজি ১৫/২০ টি ট্রাকে লোড হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকাড়েরা সরবরাহ করছে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, কৃষি সম্প্রসারন অফিসের উদ্দ্যগে মানব দেহে ক্ষতি করেনা, এমন দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উপাদনের জন্য চাষীদের প্রশিক্ষন ,অনুদান প্রদান করে ভেজাল মুক্ত সবজি উৎপাদনে জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচেছ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন

বিরামপুরে নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে!

আপডেট সময়: ০৮:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার,বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুর জেলা কৃষি প্রধান অঞ্চল. এ জেলার অন্তগর্ত বিরামপুর উপজেলাটি শস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত, ধানের পাশাপাশি এ উপজেলার কৃষকের আগ্রহ সবজি চাষ। এক বিঘা জমিতে এক সাথে ৩/৪ প্রকার সবজি চাষ করা যায়, সার কম লাগে লাভ হয় বেশী।

ধানের তুলনায় সবজি চাষে খরচ কম, সবজি ওঠে এক দেড় মাসে। সময় কম লাগে পরিচর্চা কম করতে হয়। এ কারনে সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকের উৎপাদিত প্রধান খাদ্য ধান যে জমিতে হয়না সে সব উঁচু জমিতে কৃষকেরা সবজি চাষ করে লাভবান হচেছ।

বিরামপুর পৌর এলাকার মামুদপুর গ্রামের সবজি চাষী মামুনুর রশীদ, মাহমুদুল হাসান রিপন, মোজাম্মেল হক, জানান, তিনি দুই একর জমিতে সবজি চাষ করেছেন। (বিঘাপ্রতি) ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ করে এক সাথে ৩/৪ প্রকার সবজি চাষ করে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা সবজি বিক্রী করেছেন। ধানের বাজারের যে হাল ধান আবাদ করা তারা বাদ দিয়েছেন বলে জানান। লাভ বেশী হওয়ায় বড়ছে সবজি চাষ। মৌসুমে কোন কোন সময় সবজি দাম কম থাকলে আড়ৎদার দের কাছে পাইকারী দরে বিক্রী করে কৃষকেরা লাভের মুখ কম দেখলেও বেশী লাভবান হন আড়ৎদার কাম খুচরা ব্যবসায়ীরা।

বিরামপুরে যে সবজির দাম (কেজি প্রতি) ১০ টাকা বিক্রী হয়, ঐ সবজি ঢাকায় বিক্রী হয় ৩০ টাকা। এদিকে কৃষকদের সবজি ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ না করতে, বিরামপুর কৃষি অফিসের উদ্দ্যেগে চলছে (আইপিএম) পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করন।

জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ানের মধ্যে মুকুন্দপুর, কাঠলা, পলিপ্রয়াগপুর ও বিরামপুর পৌর এলাকাধীন শত শত একর অনাবাদী জমিতে কৃষকেরা চাষ করছে সবজি। শাক-সবজি উৎপাদন এবং পরিবেশ বান্ধব মানব দেহে ক্ষতি করে না, বালাই নাশক ঔষুধ সবজি ক্ষেতে প্রযোগ না করতে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি বিশেষ করে, করলা, ঢেড়স, বেগুন, শসা, পটল, ঝিংগা, টমেটো, লাউ, কুমড়া, পাটশাক, লা”ছা-শাক পুঁইশাক ঐ পদ্ধতিতে চাষ করছেন।

সবজি ক্ষেতের পোকা মাকড় দমনের জন্য কৃষি প্রযুক্তি অন্যতম, সেফ ফেরোমন ফাঁদ, জৈবীক বালাই নাশক কান্ড, নিরবি সিভিল, ভার্মিকম্পোস সার ব্যবহার করে চাষীরা সবজি চাষ করছেন।

বিরামপুরের নতুন বাজার ”সবজি হাটি” নামক কাচা বাজারটি পাইকাদের কাছে বহুল পরিচিত।
বিরামপুর নতুন বাজার কাঁচা মালের মোকাম থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার কাচা মাল কাম – সবজি ১৫/২০ টি ট্রাকে লোড হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইকাড়েরা সরবরাহ করছে।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল জানান, কৃষি সম্প্রসারন অফিসের উদ্দ্যগে মানব দেহে ক্ষতি করেনা, এমন দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ খাদ্য উপাদনের জন্য চাষীদের প্রশিক্ষন ,অনুদান প্রদান করে ভেজাল মুক্ত সবজি উৎপাদনে জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচেছ।