ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুলি থেকে চারশ কোটি টাকার মালিক

  • আপডেট সময়: ১১:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯
  • ১২৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:তার আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি রজনীকান্ত নামে। তামিল সিনেমার এই সুপারস্টার এক সময় খাবার জোগাড়ের জন্য নানা রকম ছোটখাটো কাজও করেছেন।

কখনো কুলি হয়ে জিনিসপত্র বয়ে দিয়েছেন অন্যের, আবার কখনো বাসের টিকিট কেটেছেন কন্ডাক্টর হয়ে। উপার্জনের জন্য একসময় এসব কিছুই করতে হয়েছে তাকে।

আর বর্তমানে তিনি অন্তত চারশ কোটি টাকার মালিক! ২০১০ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন জানায়, তখন তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সম্পত্তির এই হিসেব বর্তমানে আরো বেড়েছে।

রজনীকান্তের জন্ম ১৯৫০ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুর এক মারাঠি পরিবারে। তার মা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। আর বাবা রামোজি রাও ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রজনীকান্ত। ১৯৫৬ সালে রজনীকান্ত যখন ছয় বছরের, তখন তার বাবা চাকরি থেকে অবসর নেন। ছয়জনের সংসারে পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে বাবা রামোজির।

সপরিবারে বেঙ্গালুরু শহর ছেড়ে কাছেই হনুমন্থনগর বস্তিতে ঘর বেঁধে থাকতে শুরু করেন তারা। খুব কম বয়সে মাকেও হারান রজনীকান্ত। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সংসার দেখার মতো কেউ ছিল না। পরিবারটা প্রায় ছন্নছাড়া হয়ে যায়।

বেঙ্গালুরুর একটা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন রজনীকান্ত। তারপর তার ভাই তাকে রামকৃষ্ণ মঠে ভর্তি করিয়ে দেন। ছোট থেকে ক্রিকেট, বাস্কেটবলের প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু অভিনয়কে সেভাবে ভালোবাসতেন না। রামকৃষ্ণ মঠেই তার অভিনয়ে হাতেখড়ি।

সংসারের টানাপড়েনে স্কুল পাস করেই রজনীকান্ত চাকরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনো কুলিগিরি আবার কখনো কাঠের মিস্ত্রি হয়ে কাজ করেছেন। তারপর বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বাস কন্ডাক্টরের কাজ পান।

এসব কাজ করাকালীনও মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করতেন রজনীকান্ত। তবে অভিনয়ে জনপ্রিয় হওয়ার আগে বাস কন্ডাক্টর হিসেবেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

যে রুটের বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন রজনীকান্ত, সেই বাস ধরার জন্য অনেক সময় পাবলিক অপেক্ষা করতেন। কারণ, রজনীকান্ত বাসের মধ্যেও টিকিট সংগ্রহের সময় নিজের ইউনিক স্টাইল দেখিয়ে যাত্রীদের বিনোদন দিতেন।

বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করার সময় রজনীকান্ত কবি ও লেখক টপি মুনিয়াপ্পার পৌরাণিক কাহিনিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সে সময় তিনি অভিনয়টা আরো ভালো করে শেখার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

কাজ ছেড়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ির লোকদের একেবারেই সায় ছিল না। সে সময় তার আর এক কন্ডাক্টর বন্ধু ভরসা জুগিয়েছিলেন। তাকে আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

ফিল্ম ইনস্টিটিউটেই তামিল সিনেমার পরিচালক কে বালাচন্দ্রের নজরে পড়ে যান তিনি। তার পরামর্শেই তামিল ভাষা শেখেন রজনীকান্ত। ১৯৭৫ সালে কে বালাচন্দ্রের ফিল্ম ‘অপূর্বা রাগাঙ্গাল’ -এ প্রথম অভিনয় করেন।

তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে থাকেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘শিবাজি’ সিনেমায় ২৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা হন তিনি। ওই বছর পারিশ্রমিকে প্রথম ছিলেন জ্যাকি চ্যান।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হারতে চলেছেন নেতানিয়াহু, বড় বিপর্যয়ের আভাস

কুলি থেকে চারশ কোটি টাকার মালিক

আপডেট সময়: ১১:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:তার আসল নাম শিবাজি রাও গায়কোয়াড়। তবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি রজনীকান্ত নামে। তামিল সিনেমার এই সুপারস্টার এক সময় খাবার জোগাড়ের জন্য নানা রকম ছোটখাটো কাজও করেছেন।

কখনো কুলি হয়ে জিনিসপত্র বয়ে দিয়েছেন অন্যের, আবার কখনো বাসের টিকিট কেটেছেন কন্ডাক্টর হয়ে। উপার্জনের জন্য একসময় এসব কিছুই করতে হয়েছে তাকে।

আর বর্তমানে তিনি অন্তত চারশ কোটি টাকার মালিক! ২০১০ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন জানায়, তখন তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সম্পত্তির এই হিসেব বর্তমানে আরো বেড়েছে।

রজনীকান্তের জন্ম ১৯৫০ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুর এক মারাঠি পরিবারে। তার মা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। আর বাবা রামোজি রাও ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রজনীকান্ত। ১৯৫৬ সালে রজনীকান্ত যখন ছয় বছরের, তখন তার বাবা চাকরি থেকে অবসর নেন। ছয়জনের সংসারে পেনশনের টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে বাবা রামোজির।

সপরিবারে বেঙ্গালুরু শহর ছেড়ে কাছেই হনুমন্থনগর বস্তিতে ঘর বেঁধে থাকতে শুরু করেন তারা। খুব কম বয়সে মাকেও হারান রজনীকান্ত। মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সংসার দেখার মতো কেউ ছিল না। পরিবারটা প্রায় ছন্নছাড়া হয়ে যায়।

বেঙ্গালুরুর একটা সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেন রজনীকান্ত। তারপর তার ভাই তাকে রামকৃষ্ণ মঠে ভর্তি করিয়ে দেন। ছোট থেকে ক্রিকেট, বাস্কেটবলের প্রতি আগ্রহ ছিল, কিন্তু অভিনয়কে সেভাবে ভালোবাসতেন না। রামকৃষ্ণ মঠেই তার অভিনয়ে হাতেখড়ি।

সংসারের টানাপড়েনে স্কুল পাস করেই রজনীকান্ত চাকরির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনো কুলিগিরি আবার কখনো কাঠের মিস্ত্রি হয়ে কাজ করেছেন। তারপর বেঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের বাস কন্ডাক্টরের কাজ পান।

এসব কাজ করাকালীনও মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করতেন রজনীকান্ত। তবে অভিনয়ে জনপ্রিয় হওয়ার আগে বাস কন্ডাক্টর হিসেবেও ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

যে রুটের বাসের কন্ডাক্টর ছিলেন রজনীকান্ত, সেই বাস ধরার জন্য অনেক সময় পাবলিক অপেক্ষা করতেন। কারণ, রজনীকান্ত বাসের মধ্যেও টিকিট সংগ্রহের সময় নিজের ইউনিক স্টাইল দেখিয়ে যাত্রীদের বিনোদন দিতেন।

বাস কন্ডাক্টরের চাকরি করার সময় রজনীকান্ত কবি ও লেখক টপি মুনিয়াপ্পার পৌরাণিক কাহিনিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। সে সময় তিনি অভিনয়টা আরো ভালো করে শেখার জন্য মাদ্রাজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন।

কাজ ছেড়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্তে বাড়ির লোকদের একেবারেই সায় ছিল না। সে সময় তার আর এক কন্ডাক্টর বন্ধু ভরসা জুগিয়েছিলেন। তাকে আর্থিক সাহায্যও করেছিলেন।

ফিল্ম ইনস্টিটিউটেই তামিল সিনেমার পরিচালক কে বালাচন্দ্রের নজরে পড়ে যান তিনি। তার পরামর্শেই তামিল ভাষা শেখেন রজনীকান্ত। ১৯৭৫ সালে কে বালাচন্দ্রের ফিল্ম ‘অপূর্বা রাগাঙ্গাল’ -এ প্রথম অভিনয় করেন।

তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে থাকেন তিনি। ২০০৭ সালে ‘শিবাজি’ সিনেমায় ২৬ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে এশিয়ার দ্বিতীয় পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা হন তিনি। ওই বছর পারিশ্রমিকে প্রথম ছিলেন জ্যাকি চ্যান।