ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাড়ছে উদ্বেগ

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর নয়টি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী—এই পাঁচটি নদীর পানি মোট ৯টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে, মনু নদীর পানি মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজারে, খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লায়, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান ও দোহাজারীতে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি লামা ও চিরিঙ্গা স্টেশনে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে পানি বেড়েছে। বিপরীতে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে। তবে কয়েকটি নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে এখনো তা বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং সুরমা তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও তিস্তা নদী নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

একই সময়ে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভোগাই-কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব নদীর কোনো কোনো স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা আগের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের ৩২৯ মিলিমিটারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অন্যদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। এসব এলাকায় শুক্রবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও টানা তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে ঢাকায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি দেশের সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত মেনে চলার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

FibroScan সেবা: পপুলার ডায়াগনস্টিক ও KNS Canada (BD)-এর মধ্যে নতুন সমঝোতা

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময়: ০৯:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর নয়টি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী—এই পাঁচটি নদীর পানি মোট ৯টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে, মনু নদীর পানি মনু রেলসেতু ও মৌলভীবাজারে, খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লায়, সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান ও দোহাজারীতে এবং মাতামুহুরী নদীর পানি লামা ও চিরিঙ্গা স্টেশনে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের মধ্যে ৭৮টিতে পানি বেড়েছে। বিপরীতে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে। তবে কয়েকটি নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে এখনো তা বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং সুরমা তীরবর্তী এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা ও সিলোনিয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তবে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও তিস্তা নদী নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

একই সময়ে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভোগাই-কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব নদীর কোনো কোনো স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, চট্টগ্রামে বৃষ্টির তীব্রতা আগের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের ৩২৯ মিলিমিটারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অন্যদিকে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। এসব এলাকায় শুক্রবারও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও টানা তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে ঢাকায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি দেশের সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত মেনে চলার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে।