লোকসমাচার, নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের প্রতিবেদনে যশোরের এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতির হিসাব তুলে ধরে।
উপজেলাভিত্তিক পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। অভয়নগর-৫,বাঘারপাড়া-৪,ঝিকরগাছা১,কেশবপুর-২,শার্শা-৯ এবং ২৫০ শয্যা বিঃজেঃহডঃযঃ-৪ জন সর্বশেষ পৃথক হিসাব এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
এর আগে ২২ অক্টোবর প্রকাশিত যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যম সময়ের কণ্ঠস্বর জানিয়েছিল, ওই দিন পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৮৮৩ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছিলেন এবং ৯০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও প্রস্তুতি
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লে হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের পর্যাপ্ততা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ বিষয়ে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ বক্তব্য এবং বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, তার হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সে জন্য বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।
জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন এবং যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যের বরাতে ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সময়ের কণ্ঠস্বরের সংবাদ।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ২৮ অক্টোবরের জেলাভিত্তিক হিসাব সংগ্রহ করে আক্রান্ত, মৃত্যুর সংখ্যা ও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা পুনরায় যাচাই করুন।






















