ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

  • আপডেট সময়: ১০:৩২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ জন শিশু।

শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ জন শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৫ মে পর্যন্ত দুই মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে মোট সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত ১২ জন শিশুর মধ্যে ৮ জন সন্দেহজনক হামের উপসর্গে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে গত দুই মাসে সন্দেহজনক হামে ৩৭৭ জন এবং নিশ্চিত হামে ৭৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

দ্রুত সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর এমন উচ্চহার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সেখানকার হাসপাতালগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই প্রাদুর্ভাব রুখতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি বা হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময়: ১০:৩২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৩ জন শিশু।

শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে এক ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়েছে ১১১ জন শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে ১৫ মে পর্যন্ত দুই মাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে মোট সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জন। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত ১২ জন শিশুর মধ্যে ৮ জন সন্দেহজনক হামের উপসর্গে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সামগ্রিক পরিসংখ্যানে গত দুই মাসে সন্দেহজনক হামে ৩৭৭ জন এবং নিশ্চিত হামে ৭৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।

দ্রুত সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর এমন উচ্চহার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিশেষ করে সিলেট ও ময়মনসিংহে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সেখানকার হাসপাতালগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই প্রাদুর্ভাব রুখতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি বা হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।