ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগে তোপের মুখে ইসরাইলি সেনা

  • আপডেট সময়: ১১:১৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, একজন ইসরাইলি সেনা বড় হাতুড়ি দিয়ে যিশুর মূর্তিটিতে আঘাত করছেন।

এই ঘটনাটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়ে চরম আঘাত হানার পাশাপাশি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার (২০ এপ্রিল) এই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে যে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছবিটি দক্ষিণ লেবাননে কর্মরত এক ইসরাইলি সেনার।

বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইসরাইল সেখানে স্থল অভিযান চালাচ্ছে। সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ইসরাইলি পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি সদস্যরা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য আয়মান ওদেহ উপহাস করে বলেন যে তিনি এখন পুলিশের সেই বিবৃতির অপেক্ষায় আছেন যেখানে বলা হবে যে যিশুর মূর্তির কাছ থেকে ওই সেনা ‘হুমকি’ বোধ করেছিলেন।

অন্য এক সংসদ সদস্য আহমদ তিবি অভিযোগ করেন যে যারা গাজায় মসজিদ ও গির্জা উড়িয়ে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমে যিশুর অনুসারীদের ওপর থুতু ছিটিয়েও শাস্তি পাচ্ছে না, তাদের কাছে যিশুর মূর্তি ভাঙা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও অধিকারকর্মীরা এই ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতার কড়া সমালোচনা করেছেন। অনেকেই বলছেন যে ধর্মীয় প্রতীকের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলার পরও আন্তর্জাতিক মহলের চুপ থাকা এই ধরণের বর্ণবাদী আচরণকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ উঠেছে যে কেবল গাজা বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ধর্মীয় উপাসনালয়ের ওপর হামলা বাড়ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডাটা সেন্টার, যার বেশিরভাগই ঘটেছে অধিকৃত জেরুজালেমের পুরনো শহরে।

দক্ষিণ লেবাননের দেব্ল গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই মূর্তিটি ভাঙার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ওই অঞ্চলে তীব্র সংঘাত চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় নিদর্শনের ওপর এই ধরণের আক্রমণ কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং একটি বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগে তোপের মুখে ইসরাইলি সেনা

আপডেট সময়: ১১:১৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা যায়, একজন ইসরাইলি সেনা বড় হাতুড়ি দিয়ে যিশুর মূর্তিটিতে আঘাত করছেন।

এই ঘটনাটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়ে চরম আঘাত হানার পাশাপাশি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার (২০ এপ্রিল) এই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে যে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ছবিটি দক্ষিণ লেবাননে কর্মরত এক ইসরাইলি সেনার।

বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইসরাইল সেখানে স্থল অভিযান চালাচ্ছে। সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ইসরাইলি পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি সদস্যরা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য আয়মান ওদেহ উপহাস করে বলেন যে তিনি এখন পুলিশের সেই বিবৃতির অপেক্ষায় আছেন যেখানে বলা হবে যে যিশুর মূর্তির কাছ থেকে ওই সেনা ‘হুমকি’ বোধ করেছিলেন।

অন্য এক সংসদ সদস্য আহমদ তিবি অভিযোগ করেন যে যারা গাজায় মসজিদ ও গির্জা উড়িয়ে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমে যিশুর অনুসারীদের ওপর থুতু ছিটিয়েও শাস্তি পাচ্ছে না, তাদের কাছে যিশুর মূর্তি ভাঙা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও অধিকারকর্মীরা এই ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতার কড়া সমালোচনা করেছেন। অনেকেই বলছেন যে ধর্মীয় প্রতীকের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলার পরও আন্তর্জাতিক মহলের চুপ থাকা এই ধরণের বর্ণবাদী আচরণকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ উঠেছে যে কেবল গাজা বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ধর্মীয় উপাসনালয়ের ওপর হামলা বাড়ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডাটা সেন্টার, যার বেশিরভাগই ঘটেছে অধিকৃত জেরুজালেমের পুরনো শহরে।

দক্ষিণ লেবাননের দেব্ল গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই মূর্তিটি ভাঙার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ওই অঞ্চলে তীব্র সংঘাত চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় নিদর্শনের ওপর এই ধরণের আক্রমণ কেবল দুই দেশের সংঘাত নয়, বরং একটি বৃহত্তর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিদ্বেষের প্রতিফলন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।