ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে চীনের হুঁশিয়ারি

  • আপডেট সময়: ১০:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১২৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেষ্টার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের ‘কখনোই সমাধান হবে না’। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না।’

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বক্তব্য বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘রঙিন বিপ্লব বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি সেখানকার জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনও হওয়া উচিত ছিল না এবং এই যুদ্ধ কারও কোনো উপকার করছে না। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে।’

ওয়াং আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই এই অঞ্চলের বিষয়গুলো স্থানীয় দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।

কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ওয়াং ই বলেন, সব পক্ষের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত, সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি যোগ করেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যস্থতার জন্য একজন বিশেষ দূত পাঠাবে চীন।
সূত্র : সিএনএন

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে চীনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময়: ১০:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চেষ্টার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সংকটের ‘কখনোই সমাধান হবে না’। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এমন শাসনে ফিরে যেতে পারে না।’

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বক্তব্য বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, ‘রঙিন বিপ্লব বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতি সেখানকার জনগণের কোনো সমর্থন নেই। মূলত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সম্ভব।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে যাতে সংঘাত আরও না বাড়ে এবং অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি যুদ্ধ যা কখনও হওয়া উচিত ছিল না এবং এই যুদ্ধ কারও কোনো উপকার করছে না। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে।’

ওয়াং আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণই এই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই এই অঞ্চলের বিষয়গুলো স্থানীয় দেশগুলোকেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া উচিত, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়া।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম।

কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে ওয়াং ই বলেন, সব পক্ষের দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা উচিত, সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান করা এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি যোগ করেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের শান্তি নিশ্চিত করা এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যস্থতার জন্য একজন বিশেষ দূত পাঠাবে চীন।
সূত্র : সিএনএন