ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলা নদীতে ভালোবাসার ফুল ছিটিয়ে বিশ্ব নদী দিবস পালন

  • আপডেট সময়: ০৯:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৫ জন দেখেছে
Spread the love

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট:নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি—দখল-দূষণ বন্ধ ও জেলেদের বিকল্প জীবিকার আহ্বান

মোংলা নদীর পাড়ে শিশুরা ছিটিয়েছে ফুল, ভাসিয়েছে রঙিন কাগজের নৌকা। নদীর প্রতি ভালোবাসা আর নদী রক্ষার বার্তা নিয়ে এভাবেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিশ্ব নদী দিবস পালন করা হয়েছে বাগেরহাটের মোংলায়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নারিকেলতলা নদীপাড়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা, র‍্যালি, মানববন্ধন, নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা।

এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে।’

সকাল সাড়ে ১০টায় ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।

সভায় উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. মিজানুর রহমান, পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু, জেলে সমিতির নেতা বিদ্যুৎ মণ্ডল ও আব্দুর রশিদ হাওলাদার, উত্তরণের মনিটরিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, মোংলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মোখলেছুর রহমান, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সোহেল রানা ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, ‘নদী-প্রকৃতি, জল, জঙ্গল ও জমির উর্বরতা রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর জরুরি।’

তিনি বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই, গরম পানি ও কয়লা-সংশ্লিষ্ট দূষণ পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদী-খালের জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। নদী ও জেলেজীবন, মৎস্যসম্পদ এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নদী রক্ষায় দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে।’ পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধের উদ্যোগের সঙ্গে জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও করার দাবি জানান তিনি।

জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ বলেন, শিল্প ও কয়লা দূষণ থেকে পশুর নদীসহ সুন্দরবন অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।

পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু বলেন, ‘নদীপাড়ের মানুষ ভালো থাকলে নদীও ভালো থাকবে। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’

আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আগে শিশুরা নদীর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে মোংলা নদীতে ফুল ছিটিয়ে দেয়। এরপর নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে রঙিন কাগজের প্রতীকী নৌকা ভাসানো হয়। পরে নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

মোংলা নদীতে ভালোবাসার ফুল ছিটিয়ে বিশ্ব নদী দিবস পালন

আপডেট সময়: ০৯:৪৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট:নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের দাবি—দখল-দূষণ বন্ধ ও জেলেদের বিকল্প জীবিকার আহ্বান

মোংলা নদীর পাড়ে শিশুরা ছিটিয়েছে ফুল, ভাসিয়েছে রঙিন কাগজের নৌকা। নদীর প্রতি ভালোবাসা আর নদী রক্ষার বার্তা নিয়ে এভাবেই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিশ্ব নদী দিবস পালন করা হয়েছে বাগেরহাটের মোংলায়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নারিকেলতলা নদীপাড়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উত্তরণ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান, আলোচনা সভা, র‍্যালি, মানববন্ধন, নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা।

এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য—‘বন বাঁচলে নদী বাঁচবে, নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, পানি বাঁচলে জীবন বাঁচবে।’

সকাল সাড়ে ১০টায় ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধরা কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।

সভায় উত্তরণের ফিসনেট প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. মিজানুর রহমান, পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু, জেলে সমিতির নেতা বিদ্যুৎ মণ্ডল ও আব্দুর রশিদ হাওলাদার, উত্তরণের মনিটরিং অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, মোংলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মোখলেছুর রহমান, ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সোহেল রানা ও মোহাম্মদ শাহীন খলিফাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, ‘নদী-প্রকৃতি, জল, জঙ্গল ও জমির উর্বরতা রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর জরুরি।’

তিনি বলেন, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই, গরম পানি ও কয়লা-সংশ্লিষ্ট দূষণ পশুর নদীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন নদী-খালের জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। নদী ও জেলেজীবন, মৎস্যসম্পদ এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। নদী রক্ষায় দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে।’ পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধের উদ্যোগের সঙ্গে জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও করার দাবি জানান তিনি।

জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ বলেন, শিল্প ও কয়লা দূষণ থেকে পশুর নদীসহ সুন্দরবন অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা করতে হবে।

পরিবেশকর্মী রাফিয়া জাহান মিশু বলেন, ‘নদীপাড়ের মানুষ ভালো থাকলে নদীও ভালো থাকবে। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।’

আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আগে শিশুরা নদীর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে মোংলা নদীতে ফুল ছিটিয়ে দেয়। এরপর নদীর গুরুত্ব তুলে ধরে রঙিন কাগজের প্রতীকী নৌকা ভাসানো হয়। পরে নদীতে গণগোসল, সাঁতার ও হাঁস ধরা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় নদী ও জেলেজীবন সুরক্ষার দাবিতে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।