ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের ‘র’ এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান মার্কিন সংস্থার

  • আপডেট সময়: ১১:০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৫৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম অবনতির অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগপূর্ণ দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সংস্থা। একইসঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।

মার্কিন সংস্থাটির অভিযোগ, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেছে ভারত সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের সহনশীল মনোভাবের অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিল। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তোলার পর মহারাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে বহু মানুষ আহত হন। জুন মাসে উড়িষ্যায় ভিএইচপি আয়োজিত বিক্ষোভের সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

এছাড়া, গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের জলসীমার কাছে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

এছাড়া, জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আরএসএসের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

ভারতের ‘র’ এবং আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান মার্কিন সংস্থার

আপডেট সময়: ১১:০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম অবনতির অভিযোগে ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগপূর্ণ দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বাধীন সংস্থা। একইসঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)–এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।

মার্কিন সংস্থাটির অভিযোগ, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করেছে ভারত সরকার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরবিরোধী আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর হামলার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের সহনশীল মনোভাবের অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হয়রানি, উসকানি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিল। ২০২৫ সালের মার্চে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবি তোলার পর মহারাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে বহু মানুষ আহত হন। জুন মাসে উড়িষ্যায় ভিএইচপি আয়োজিত বিক্ষোভের সময় কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে এবং সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

এছাড়া, গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে মিয়ানমারের জলসীমার কাছে নিয়ে গিয়ে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

এছাড়া, জুলাই মাসে আসাম থেকে শত শত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের অনেকেই ভারতীয় নাগরিক।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ (সিপিসি) হিসেবে ঘোষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছে ইউএসসিআইআরএফ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আরএসএসের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সম্পদ জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।