ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ দাবানল : চিলিতে জরুরি অবস্থা, ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

  • আপডেট সময়: ০৩:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক

:দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে হঠাৎ ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং শত শত বাড়িঘর পুড়ে গেছে। একযোগে অন্তত দুই ডজন স্পটে সক্রিয় রয়েছে আগুন।

আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বায়োবিও ও নুবলে—দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ও বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে চিলি সরকার। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলের ৫০ হাজার একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও বিবিসির পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

রোববার চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে রাত্রিকালীন কারফিউও জারি করা হয়েছে।

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলেই দাবানলের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। রোববারই এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বোরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ‘সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে’। এই ঘোষণার ফলে সেনাবাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হতে পেরেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিজালদে বলেন, আগামী কয়েক দিনে প্রতিকূল আবহাওয়া বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন করে তুলবে। আমরা এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।

এদিকে বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে করে ব্যাপকভাবে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

পৃথক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমে রাস্তায় পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি খরার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিলিতে একের পর এক ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। চিলির বন বিভাগ কনাফ জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে মোট ২৪টি আগুনের সঙ্গে লড়াই করছিল দমকল বাহিনী। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আগুনগুলো নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই দুই অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর (৫০ হাজার একর) এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। প্রবল বাতাস ও গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

এমন অবস্থায় চিলির বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দুই দিনে সান্তিয়াগো থেকে বায়োবিও পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলি ঘন ঘন ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একযোগে শুরু হওয়া দাবানলে ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোরিক বলেছিলেন, ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর এটিই চিলির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন চিলিতে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

ভয়াবহ দাবানল : চিলিতে জরুরি অবস্থা, ঘর ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ

আপডেট সময়: ০৩:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক

:দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে হঠাৎ ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন। ইতোমধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং শত শত বাড়িঘর পুড়ে গেছে। একযোগে অন্তত দুই ডজন স্পটে সক্রিয় রয়েছে আগুন।

আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বায়োবিও ও নুবলে—দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ও বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে চিলি সরকার। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলের ৫০ হাজার একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও বিবিসির পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

রোববার চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক বলেন, এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে রাত্রিকালীন কারফিউও জারি করা হয়েছে।

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলেই দাবানলের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। রোববারই এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট বোরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ‘সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে’। এই ঘোষণার ফলে সেনাবাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হতে পেরেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিজালদে বলেন, আগামী কয়েক দিনে প্রতিকূল আবহাওয়া বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন করে তুলবে। আমরা এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।

এদিকে বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। এতে করে ব্যাপকভাবে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০টি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

পৃথক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমে রাস্তায় পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি খরার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিলিতে একের পর এক ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। চিলির বন বিভাগ কনাফ জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে মোট ২৪টি আগুনের সঙ্গে লড়াই করছিল দমকল বাহিনী। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আগুনগুলো নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই দুই অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর (৫০ হাজার একর) এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। প্রবল বাতাস ও গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

এমন অবস্থায় চিলির বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দুই দিনে সান্তিয়াগো থেকে বায়োবিও পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলি ঘন ঘন ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একযোগে শুরু হওয়া দাবানলে ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোরিক বলেছিলেন, ২০১০ সালের ভূমিকম্পের পর এটিই চিলির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ওই ভূমিকম্পে অন্তত ৫০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন চিলিতে।