ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেলাবতে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা

  • আপডেট সময়: ০৯:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
  • ১৬১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর বেলাবতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রুবেল মিয়া নামে এক বখাটে কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের ফলে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকা (১৩) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। পরে ধর্ষকের বাবা কর্তৃক অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানোর ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় ওই কিশোরীকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষক রুবেল বেলাব উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে বেলাব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর ধর্ষক রুবেল পালিয়ে গেলেও তাঁর বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দা গ্রামের এক কৃষি শ্রমিকের ১৩ বছরের মেয়ে ৫ বছর যাবৎ পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার বাড়িতে থেকে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। গত দুই বছরে হিরু মিয়ার বখাটে ছেলে রুবেল মিয়া ওই গৃহকর্মী কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়া নির্যাতনের শিকার কিশোরীর কাছ থেকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে কাউকে না জানানোর জন্য শাসায়। পরে হিরু মিয়া স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিশোরীর গর্ভপাত করায়। এতে কিশোরীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদরের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কিশোরীটিকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ঘটনাটি সবার মধ্যে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেলাব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রুবেলকে না পেয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদী জানান, ধর্ষক রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি গরিব মানুষ। আমি আমার মেয়ের নির্যাতনের বিচার চাই।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কিছু লোক আমার কাছেও ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বলছেন। কিন্তু ধর্ষণের মত অপরাধের কোন মিমাংসা নেই। থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষক রুবেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বেলাবতে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা

আপডেট সময়: ০৯:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার,নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর বেলাবতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রুবেল মিয়া নামে এক বখাটে কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের ফলে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকা (১৩) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। পরে ধর্ষকের বাবা কর্তৃক অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানোর ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় ওই কিশোরীকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষক রুবেল বেলাব উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে বেলাব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর ধর্ষক রুবেল পালিয়ে গেলেও তাঁর বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দা গ্রামের এক কৃষি শ্রমিকের ১৩ বছরের মেয়ে ৫ বছর যাবৎ পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার বাড়িতে থেকে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। গত দুই বছরে হিরু মিয়ার বখাটে ছেলে রুবেল মিয়া ওই গৃহকর্মী কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়া নির্যাতনের শিকার কিশোরীর কাছ থেকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে কাউকে না জানানোর জন্য শাসায়। পরে হিরু মিয়া স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিশোরীর গর্ভপাত করায়। এতে কিশোরীটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদরের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর পুনরায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কিশোরীটিকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে ঘটনাটি সবার মধ্যে জানাজানি হয়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেলাব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক রুবেলকে না পেয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা ও মামলার বাদী জানান, ধর্ষক রুবেলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি গরিব মানুষ। আমি আমার মেয়ের নির্যাতনের বিচার চাই।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কিছু লোক আমার কাছেও ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বলছেন। কিন্তু ধর্ষণের মত অপরাধের কোন মিমাংসা নেই। থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষক রুবেলের বাবা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষক রুবেলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।