লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের অভয়নগরে নবম শ্রেণির এক ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে খুলনা হয়ে ঢাকায় নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ঢাকার একটি বাস কাউন্টার থেকে ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—একটি কিশোরীকে যশোরের অভয়নগর থেকে খুলনা হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় আর কারা জড়িত?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের নিজ বাড়ির সামনে থেকে ওই কিশোরীকে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়া হয়। এর আগে তাকে মাসে এক লাখ টাকার বেশি আয়ের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা হয়েছে।
অভয়নগর থেকে খুলনা, এরপর ঢাকা
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীকে প্রথমে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। এরপর অন্যদের মাধ্যমে বাসযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঢাকায় ‘আসিফ’ নামে এক ব্যক্তির কাছে তাকে একটি বাড়ির কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও চারজন মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে উদ্ধার হওয়া কিশোরী জানিয়েছে। এখানেই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—অভয়নগর থেকে ঢাকার ওই কথিত আস্তানা পর্যন্ত পরিবহন ও যোগাযোগের পুরো ব্যবস্থাটি কারা পরিচালনা করেছিল?
কিশোরীর পালিয়ে আসাতেই বেরিয়ে আসে তথ্য
পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে সুযোগ পেয়ে কিশোরীটি সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় যায়। পরে একটি বাস কাউন্টার থেকে বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করেন। রাতে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস কাউন্টার থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
পুলিশের তথ্যমতে, রাতুল শেখ (২১) ও মুজাহিদ মোল্লা (২৩) এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ তাদের নারী অপহরণ ও পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা জানিয়েছে।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাবে না। তদন্তে তাদের সঙ্গে কথিত চক্রের অন্য সদস্যদের যোগাযোগ, ঢাকায় ওই বাড়ির অবস্থান এবং সেখানে আরও মেয়েদের উপস্থিতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন
এই ঘটনার তদন্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন—
১. কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কারা যোগাযোগ করেছিল?
২. অভয়নগর থেকে খুলনা পর্যন্ত তাকে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?
৩. সোনাডাঙ্গা থেকে ঢাকায় পাঠানোর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল?
৪. ঢাকায় ‘আসিফ’ নামে কথিত ব্যক্তির পরিচয় কী?
৫. যে বাড়িতে একাধিক মেয়েকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে, সেটি কোথায়?
৬. ওই বাড়িতে আরও কোনো কিশোরী বা নারী আটকে ছিল কি না?
৭. এই ঘটনার সঙ্গে দেশের অন্য কোনো জেলার পাচারচক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না?
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ফলে তদন্ত এগোলে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসতে পারে।
লোকসমাচারের অনুসন্ধান: ঘটনাটিকে শুধু একটি স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনা হিসেবে দেখলে এর পুরো চিত্র পাওয়া নাও যেতে পারে। চাকরির প্রলোভন থেকে শুরু করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তর এবং ঢাকায় কথিত আটকে রাখার অভিযোগ—পুরো রুট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
























