ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের দাওয়াতে কার্ডের বদলে টবসহ গাছ

  • আপডেট সময়: ১০:০০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯
  • ১৪১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : কার্ডের মাধ্যমে বিয়ের দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি কে না পরিচিত। বিয়ের অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্ড বিলি করে অতিথিদের দাওয়াত দেয়া। কিন্তু কার্ডের বদলে টবসহ ফুল গাছ পাঠিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ভারতের এক নবদম্পতি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে এই ঘটনা ঘটে। বিয়ের দাওয়াত দেয়ার অভিনব এই ঘটনার পেছনের মূল কারিগর বিয়ের পাত্র প্রাণশু কানকানে ও তার ভাই প্রতীক কানকানে।

জানা যায়, গত বছরের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের এক নবদম্পতি রিসাইকেলড বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সারেন।

এই বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়, শিরোনাম হয় গণমাধ্যমেরও। পরিবেশ রক্ষায় দারুণ এই উদ্যোগের বিষয়টি আলোড়ন তুলে দুই ভাই প্রাণশু প্রতীকের মনেও।

২০ নভেম্বর প্রাণশুর বিয়ের দিন ঠিক হয়। এর ফলে নিজেদের ইচ্ছে পূরণের সুযোগ পেয়ে গেলেন তারা। দুই ভাই মিলে ভেবে বের করলেন পরিবেশবান্ধব কী আয়োজন করা যায় বিয়েতে। যাতে মানুষকে পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলা যায়।

প্রতীক বলেন, ‘বিয়েতে অনেক খাবার অপচয় হয়, আমরা সেটি এড়ানোর চিন্তা থেকেই শুরু করি। এরপর কোনো ধরনের কার্ড না ছাপিয়ে ই-ইনভাইট পাঠানো শুরু করি। এতে সবাইকে অনুরোধ করি, বিয়েতে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে।’

এদিকে অতিথিরাও বিয়েতে দাওয়াত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং এতে হাজির হবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যস, এতেই দুই ভাই খুশি, কোনো ধরনের কাগজ অপচয় না করে দাওয়াতের কাজ শেষ হয়ে গেল।

কিন্তু এমন বিয়ের দাওয়াত নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না প্রাণশু-প্রতীকের মা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিয়ের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার পক্ষে তিনি। সেই সঙ্গে চান, স্বজনদের সঙ্গে ছেলের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।

মায়ের এমন ইচ্ছা থেকে দুই ভাইয়ের মনে জন্ম নেয় অভিনব এক চিন্তা। বিয়ের দাওয়াত দিতে অতিথিদের কাছে যাওয়ার সময় নিয়ে যান টবে করে ছোট ছোট গাছ। টবের গায়ে লেখা ছিল বিয়ের অনুষ্ঠানের নানা তথ্য।

প্রতিটি টবে ৮ থেকে ১০ মাস বয়সী একটি করে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগানো ছিল। যেগুলো ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত বাঁচে। কয়েক ধরনের ফুল গাছ তো ছিল, এমনকি তুলসী গাছও ছিল এতে। গাছসহ প্রতিটি টবের জন্য খরচ হয় ৬৮ রুপি করে।

স্বাভাবিকভাবেই এমন বিয়ের দাওয়াত পেয়ে অতিথিরাও অবাক। বিষয়টি তাদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিল। ফলে জমে গেল প্রাণশুর বিয়েও। অনুষ্ঠানে হাজির হন ৪০০ এরও বেশি অতিথি।

প্রতীক কানকানে বলেন, ‘বিষয়টি এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে আমরা আশাই করিনি। এভাবে বিয়ের দাওয়াত পেয়ে তো সবাই খুব খুশি হয়ে গিয়েছিলেন।’

এ ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে অপচয় রোধ করতে দুই ভাই অতিথিদের অনুরোধ করেছিলেন কেউ যাতে ফুলের তোড়া না আনেন এবং খাবার নষ্ট না করেন। এতেও বেশ সাড়া দেন অতিথিরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

বিয়ের দাওয়াতে কার্ডের বদলে টবসহ গাছ

আপডেট সময়: ১০:০০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : কার্ডের মাধ্যমে বিয়ের দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি কে না পরিচিত। বিয়ের অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্ড বিলি করে অতিথিদের দাওয়াত দেয়া। কিন্তু কার্ডের বদলে টবসহ ফুল গাছ পাঠিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ভারতের এক নবদম্পতি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টাইমসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালে এই ঘটনা ঘটে। বিয়ের দাওয়াত দেয়ার অভিনব এই ঘটনার পেছনের মূল কারিগর বিয়ের পাত্র প্রাণশু কানকানে ও তার ভাই প্রতীক কানকানে।

জানা যায়, গত বছরের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের এক নবদম্পতি রিসাইকেলড বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সারেন।

এই বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়, শিরোনাম হয় গণমাধ্যমেরও। পরিবেশ রক্ষায় দারুণ এই উদ্যোগের বিষয়টি আলোড়ন তুলে দুই ভাই প্রাণশু প্রতীকের মনেও।

২০ নভেম্বর প্রাণশুর বিয়ের দিন ঠিক হয়। এর ফলে নিজেদের ইচ্ছে পূরণের সুযোগ পেয়ে গেলেন তারা। দুই ভাই মিলে ভেবে বের করলেন পরিবেশবান্ধব কী আয়োজন করা যায় বিয়েতে। যাতে মানুষকে পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতন করে তোলা যায়।

প্রতীক বলেন, ‘বিয়েতে অনেক খাবার অপচয় হয়, আমরা সেটি এড়ানোর চিন্তা থেকেই শুরু করি। এরপর কোনো ধরনের কার্ড না ছাপিয়ে ই-ইনভাইট পাঠানো শুরু করি। এতে সবাইকে অনুরোধ করি, বিয়েতে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে।’

এদিকে অতিথিরাও বিয়েতে দাওয়াত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং এতে হাজির হবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ব্যস, এতেই দুই ভাই খুশি, কোনো ধরনের কাগজ অপচয় না করে দাওয়াতের কাজ শেষ হয়ে গেল।

কিন্তু এমন বিয়ের দাওয়াত নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না প্রাণশু-প্রতীকের মা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে বিয়ের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার পক্ষে তিনি। সেই সঙ্গে চান, স্বজনদের সঙ্গে ছেলের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।

মায়ের এমন ইচ্ছা থেকে দুই ভাইয়ের মনে জন্ম নেয় অভিনব এক চিন্তা। বিয়ের দাওয়াত দিতে অতিথিদের কাছে যাওয়ার সময় নিয়ে যান টবে করে ছোট ছোট গাছ। টবের গায়ে লেখা ছিল বিয়ের অনুষ্ঠানের নানা তথ্য।

প্রতিটি টবে ৮ থেকে ১০ মাস বয়সী একটি করে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগানো ছিল। যেগুলো ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত বাঁচে। কয়েক ধরনের ফুল গাছ তো ছিল, এমনকি তুলসী গাছও ছিল এতে। গাছসহ প্রতিটি টবের জন্য খরচ হয় ৬৮ রুপি করে।

স্বাভাবিকভাবেই এমন বিয়ের দাওয়াত পেয়ে অতিথিরাও অবাক। বিষয়টি তাদের মধ্যে সাড়া ফেলে দিল। ফলে জমে গেল প্রাণশুর বিয়েও। অনুষ্ঠানে হাজির হন ৪০০ এরও বেশি অতিথি।

প্রতীক কানকানে বলেন, ‘বিষয়টি এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে আমরা আশাই করিনি। এভাবে বিয়ের দাওয়াত পেয়ে তো সবাই খুব খুশি হয়ে গিয়েছিলেন।’

এ ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে অপচয় রোধ করতে দুই ভাই অতিথিদের অনুরোধ করেছিলেন কেউ যাতে ফুলের তোড়া না আনেন এবং খাবার নষ্ট না করেন। এতেও বেশ সাড়া দেন অতিথিরা।