ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

  • আপডেট সময়: ০৮:১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৯৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আখ্যা দেন তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আমরা এসবের নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে প্রত্যাশা করছি।’

তবে গত কয়েকদিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের মিশন এবং ভিসা সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে, রাজবাড়ীর পাংশা থানার একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয় বলেও স্পষ্ট করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, বুধবার রাতে সংঘটিত রাজবাড়ীর ওই হত্যাকাণ্ড সরকারের নজরে এসেছে। পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নয়; এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির ফল।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে তিনি এলাকায় গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর মামলা ছিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তার সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে।

সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করে, কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার সমর্থন করে না। ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

আপডেট সময়: ০৮:১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনাকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আখ্যা দেন তিনি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আমরা এসবের নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে প্রত্যাশা করছি।’

তবে গত কয়েকদিনে ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের মিশন এবং ভিসা সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে, রাজবাড়ীর পাংশা থানার একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ঘটনাটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয় বলেও স্পষ্ট করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, বুধবার রাতে সংঘটিত রাজবাড়ীর ওই হত্যাকাণ্ড সরকারের নজরে এসেছে। পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নয়; এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সহিংস পরিস্থিতির ফল।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে তিনি এলাকায় গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। সম্রাটের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর মামলা ছিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তার সহযোগী সেলিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে।

সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করে, কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, গণপিটুনি বা সহিংসতা সরকার সমর্থন করে না। ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, একটি মহল নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।