ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিছিয়ে যেতে পারে নবম পে-স্কেল

  • আপডেট সময়: ০৮:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ অর্থনীতির চারটি ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় বেতন কাঠামো কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অর্থ বিভাগ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আলোচনা চললেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটি কার্যকর করার বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম। বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।

আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে। এতে ভোগব্যয় বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়াবে। এসব বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে পে স্কেলের পাশাপাশি ভর্তুকি কমাতে না পারা, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

এসব ইস্যুতে আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। আলোচনা শেষে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন দেবে আইএমএফ। সেটি ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আইএমএফও এ বিষয়ে একমত হয়েছে। কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করেই এগোনো হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশভ্রমণ গাইড

চলতি মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ জন্য বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জানা গেছে, গত রবিবার অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের পদ্ধতির পাশাপাশি এ খাতে অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আইএমএফ।

তাদের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বাড়তি ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয়ের যে পরিকল্পনা সরকার তুলে ধরেছে, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি প্রতিনিধি দল। তাই বাড়তি ব্যয়ের অর্থ সংস্থানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তারা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংস্কার, রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে আইএমএফ সম্মান জানিয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি ও বাস্তবায়নের ধাপ নিয়েওইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। সরকার যে ভিত্তি ও নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছে, আইএমএফ তাতে একমত।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

বিদ্রোহ থামেনি

পিছিয়ে যেতে পারে নবম পে-স্কেল

আপডেট সময়: ০৮:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলসহ অর্থনীতির চারটি ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় বেতন কাঠামো কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অর্থ বিভাগ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের পৃথক বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আলোচনা চললেও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটি কার্যকর করার বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম। বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।

আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে। এতে ভোগব্যয় বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়াবে। এসব বিবেচনায় পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে পে স্কেলের পাশাপাশি ভর্তুকি কমাতে না পারা, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।

এসব ইস্যুতে আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। আলোচনা শেষে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন দেবে আইএমএফ। সেটি ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আইএমএফও এ বিষয়ে একমত হয়েছে। কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করেই এগোনো হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশভ্রমণ গাইড

চলতি মাস থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ জন্য বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জানা গেছে, গত রবিবার অর্থ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের পদ্ধতির পাশাপাশি এ খাতে অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আইএমএফ।

তাদের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব বাড়তি ব্যয় নির্বাহে রাজস্ব আয়ের যে পরিকল্পনা সরকার তুলে ধরেছে, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি প্রতিনিধি দল। তাই বাড়তি ব্যয়ের অর্থ সংস্থানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তারা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংস্কার, রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিতে আইএমএফ সম্মান জানিয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির ভিত্তি ও বাস্তবায়নের ধাপ নিয়েওইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা হয়েছে। সরকার যে ভিত্তি ও নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছে, আইএমএফ তাতে একমত।