ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনায় প্রতারণার অভিযোগে নেতাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

  • আপডেট সময়: ০৫:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ৯২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,পাবনা প্রতিনিধি:পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলায় ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত না পেয়ে এবং প্রতারণা বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছের সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ঘটেছে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অনেকের কাছ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা সংগ্রহ করেন সোহেল রানা। তবে, দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ায় সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, “সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড দেয়নি ওই নেতা।”

হোটেল কর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, এমনভাবে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাত থেকে আট মাস পার হলেও কোনো সরকারি সুবিধা মেলেনি। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, তার স্ত্রী শিখা খাতুন বলেছেন, “আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে। তবু, লোকজন টাকা দিয়েছে কেন? যেহেতু তারা মারছে, তাই টাকা পরিশোধ।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেছেন, “সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেছেন, “সোহেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে আমাদের দলের সাথে কর্মকাণ্ড চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ কারিগর গ্রেপ্তার

পাবনায় প্রতারণার অভিযোগে নেতাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আপডেট সময়: ০৫:৫৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,পাবনা প্রতিনিধি:পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলায় ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত না পেয়ে এবং প্রতারণা বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছের সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ঘটেছে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযুক্ত সোহেল রানা ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অনেকের কাছ থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা সংগ্রহ করেন সোহেল রানা। তবে, দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত সুবিধা না পাওয়ায় সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, “সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কার্ড দেয়নি ওই নেতা।”

হোটেল কর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, এমনভাবে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাত থেকে আট মাস পার হলেও কোনো সরকারি সুবিধা মেলেনি। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, তার স্ত্রী শিখা খাতুন বলেছেন, “আমার স্বামী চিটার, সবাই জানে। তবু, লোকজন টাকা দিয়েছে কেন? যেহেতু তারা মারছে, তাই টাকা পরিশোধ।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেছেন, “সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাফর ইকবাল হিরোক বলেছেন, “সোহেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও এমন অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে আমাদের দলের সাথে কর্মকাণ্ড চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”