ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীকে মারধরের ভিডিও ধারণ, পুলিশ ভ্যানে সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ

  • আপডেট সময়: ১১:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় এক নারীকে পুলিশ সদস্যদের মারধরের ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রমনায় ডিএমপি সদর দপ্তরে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগটি জমা দেন বুলবুল হোসেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিজয় সরণি সিগন্যালে অবস্থানকালে তিনি দেখতে পান, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এক পথচারী নারীকে মারধর করছেন। পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ শুরু করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার দিকে তেড়ে এসে জোর করে তাকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্যানে তোলার পর পুলিশ সদস্যরা বারবার জানতে চান কেন তিনি ভিডিও করেছেন এবং ভিডিওটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

বুলবুল হোসেনের দাবি, পুলিশ সদস্যরা তার মাথায় আঘাত করেন, ভ্যানের মেঝেতে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন এবং একপর্যায়ে বুট পরা পা দিয়ে তার বুকে চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি পুলিশ ভ্যান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথা, চোখ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পান এবং তিন দিনের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

অভিযোগে বুলবুল হোসেন বলেন, একজন স্বাধীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এখন পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

নারীকে মারধরের ভিডিও ধারণ, পুলিশ ভ্যানে সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময়: ১১:৪৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় এক নারীকে পুলিশ সদস্যদের মারধরের ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রমনায় ডিএমপি সদর দপ্তরে ডিএমপি কমিশনারের কাছে অভিযোগটি জমা দেন বুলবুল হোসেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিজয় সরণি সিগন্যালে অবস্থানকালে তিনি দেখতে পান, কয়েকজন পুলিশ সদস্য এক পথচারী নারীকে মারধর করছেন। পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ শুরু করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার দিকে তেড়ে এসে জোর করে তাকে একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্যানে তোলার পর পুলিশ সদস্যরা বারবার জানতে চান কেন তিনি ভিডিও করেছেন এবং ভিডিওটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

বুলবুল হোসেনের দাবি, পুলিশ সদস্যরা তার মাথায় আঘাত করেন, ভ্যানের মেঝেতে ফেলে বেধড়ক মারধর করেন এবং একপর্যায়ে বুট পরা পা দিয়ে তার বুকে চাপ দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি পুলিশ ভ্যান থেকে বের হতে সক্ষম হন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার মাথা, চোখ ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পান এবং তিন দিনের পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

অভিযোগে বুলবুল হোসেন বলেন, একজন স্বাধীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এখন পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।