ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকসহ এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটকের পরও মাদক মামলার পরিবর্তে সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সদর মডেল থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল গভীর রাতে সদর উপজেলার মহারাজপুর-মিয়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে কবিরুল ইসলাম বাবু (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গাঁজাসহ আটক করে এএসআই আকুব্বর আলীর নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল। আটক বাবু ওই এলাকার মৃত বেলাল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি পাওয়ার টিলার চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত।
আটক ব্যক্তির স্ত্রী শিখা খাতুন (৩০) জানান, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে টাকার জন্য তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে স্বামীর মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে পুলিশের সঙ্গে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে, সেখান থেকে গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, থানায় নেওয়ার পর শিখা খাতুনের অভিযোগ বা মাদক উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে কবিরুল ইসলাম বাবুকে মাদক মামলার পরিবর্তে ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়। ফলে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিন পেয়ে যান।
এ বিষয়ে শিখা খাতুন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে পুলিশ মাদক মামলা না দিয়ে জামিনযোগ্য ধারায় তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। এতে করে সহজেই জামিন পেয়ে ওই ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এএসআই আকুব্বর আলী লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাবুকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তবে তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই আকুব্বর আলী বলেন, স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য বাবুকে আটক করা হয়। তিনি দাবি করেন, “মাদক পাইনি, সামান্য কিছু গাঁজা ও সেবনের উপকরণ পাওয়া গিয়েছিল।” পরে ওসি’র সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ একরামুল হোসাইন বলেন, একটি মাদক মামলার পেছনে সরকারের অনেক ব্যয় হয়, সে কারণেই ১৫১ ধারায় পাঠানো হয়েছে। তবে যদি টাকার বিনিময়ে মাদক মামলা না দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট এএসআই’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


























