ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

  • আপডেট সময়: ০৮:১৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’র খসড়ায় পাঁচ জায়গায় পরিবর্তন এনেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত আকারে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার (২ আগস্ট) জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিশন কর্তৃক তদন্তকালে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে কমিশন। কমিশন চাইলে যেকোনো ঘটনার তদন্তও করতে পারবে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই এনপিএম তার ইচ্ছেমতো যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। খসড়া বিলে পূর্বানুমতির বিধান থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল।

এ ছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী ও একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী আজ সুপারিশটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পাঁচ জায়গায় সংশোধনসহ বিলটি আজ সংসদে উপস্থাপন করা হলে এসব পরিবর্তনের বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদে বিবেচনায় আসবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

আপডেট সময়: ০৮:১৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’র খসড়ায় পাঁচ জায়গায় পরিবর্তন এনেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত আকারে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বুধবার (২ আগস্ট) জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কমিশন কর্তৃক তদন্তকালে কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা দেখতে পেলে এবং ওই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করতে পারবে কমিশন। কমিশন চাইলে যেকোনো ঘটনার তদন্তও করতে পারবে। সেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী প্রটোকলের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা ইউনিট (এনপিএম) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই এনপিএম তার ইচ্ছেমতো যেকোনো স্থানে, বিশেষ করে আটককেন্দ্র, হাজতখানা ও সেইফ হোম পরিদর্শন করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না। খসড়া বিলে পূর্বানুমতির বিধান থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল।

এ ছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন নারী ও একজন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে রাখা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ৩০ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করা হয়। বৈঠক শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী আজ সুপারিশটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির উদ্দেশ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, নতুন আইনের মাধ্যমে কমিশনকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পাঁচ জায়গায় সংশোধনসহ বিলটি আজ সংসদে উপস্থাপন করা হলে এসব পরিবর্তনের বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিলটি পাসের জন্য সংসদে বিবেচনায় আসবে।