ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, সিদ্ধান্ত শিগগির: চিফ হুইপ

  • আপডেট সময়: ০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ।

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে দেশটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।ব্রিকস সম্মেলনে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে, ‘বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে’— দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।

চিফ হুইপ বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই এই দেশকে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করবে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। এমপি-মন্ত্রীদের রসিদ ছাড়া বিল পরিশোধ না করা, সাধারণ পোশাক ও জীবনযাপন এবং সরকারি প্রটোকল কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ।

সরকারি খাবারের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে বছরে যেখানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খাবারের বিল হতো, সেখানে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ নিয়ে আগের সরকারের চুক্তির সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি করেছিল। বিদ্যুৎ না পেলেও বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেন চিফ হুইপ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, সিদ্ধান্ত শিগগির: চিফ হুইপ

আপডেট সময়: ০৬:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে তৃতীয় অধিবেশন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ।

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে দেশটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।ব্রিকস সম্মেলনে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।

নুরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে এলে, ‘বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে’— দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।

চিফ হুইপ বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই এই দেশকে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করবে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি। এমপি-মন্ত্রীদের রসিদ ছাড়া বিল পরিশোধ না করা, সাধারণ পোশাক ও জীবনযাপন এবং সরকারি প্রটোকল কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ।

সরকারি খাবারের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে বছরে যেখানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খাবারের বিল হতো, সেখানে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ নিয়ে আগের সরকারের চুক্তির সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি করেছিল। বিদ্যুৎ না পেলেও বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করেন চিফ হুইপ।