ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ, নবাবগঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময়: ০৬:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ করা একটি অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা এবং হয়রানির অভিযোগও করেছেন মোঃ আলী জিন্নাহ নামে এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান ও সার্বিক কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ আলী জিন্নাহ। তিনি নিজেকে দৈনিক লোকসমাচার ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক আজকালের সংবাদ-এর খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার খালাতো বোন মোছাঃ হোসনেয়ারা খাতুন ও ভগ্নিপতি মোঃ বিল্লাল হোসেনের কাছে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে যশোর আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা চলমান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ বিল্লাল হোসেন মাছ ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিল্লালকে মুক্ত করতে আলী জিন্নাহ নিজেকে জামিনদার হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজের ব্যাংক হিসাবের চেক ও স্ট্যাম্প প্রদান করেন। এর বিপরীতে তার খালু মোঃ হোসেন আলী ১৮ লাখ টাকার একটি চেক দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলী জিন্নাহর ভাষ্য, দীর্ঘদিনেও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে তার খালাতো বোন ও ভগ্নিপতি এবং পরিবারের সদস্যদের কেউ বিদেশে চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন তার খালাতো বোন নারায়ণগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। গত ২৯ আগস্ট তিনি সেখানে গেলে তার খালু তাকে দেখে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনার জন্য আলী জিন্নাহ তার খালাতো বোনকে নিয়ে নবাবগঞ্জ থানাধীন বান্দুরা-হাসনাবাদ এলাকার এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় যান বলে জানান। তার দাবি, সেখানে অবস্থানকালে তার খালাতো বোন ৯৯৯-এ ফোন করে তাকে অপহরণ, ৫ লাখ টাকা নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুদর্শনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আলী জিন্নাহ দাবি করেন, পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে তিনি পুলিশকে জানান।

তার আরও অভিযোগ, এ সময় তার নিউজ পোর্টালের নবাবগঞ্জ থানা প্রতিনিধির কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিনিধির স্ত্রী ফোনে তাকে জানান, টাকা দেওয়ার মতো নগদ অর্থ না থাকায় স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

আলী জিন্নাহর অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা ৯৯৯-এ করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যশোরের একজন এএসপির যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, ৩১ আগস্ট হোসনেয়ারার মা ও তার আরেক জামাই নবাবগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে ৯৯৯-এ করা অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে জানান এবং পাওনা টাকার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ জিম্মায় নিয়ে যান বলে দাবি করেন আলী জিন্নাহ।

লিখিত অভিযোগে তিনি নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুদর্শন, তার সঙ্গে থাকা পাঁচজন কনস্টেবল এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হানিফের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ, নবাবগঞ্জ পুলিশের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৬:৪৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ করা একটি অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা এবং হয়রানির অভিযোগও করেছেন মোঃ আলী জিন্নাহ নামে এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রধান ও সার্বিক কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোঃ আলী জিন্নাহ। তিনি নিজেকে দৈনিক লোকসমাচার ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক, জাতীয় দৈনিক আজকালের সংবাদ-এর খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার খালাতো বোন মোছাঃ হোসনেয়ারা খাতুন ও ভগ্নিপতি মোঃ বিল্লাল হোসেনের কাছে তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে যশোর আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা চলমান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ বিল্লাল হোসেন মাছ ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার পর তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিল্লালকে মুক্ত করতে আলী জিন্নাহ নিজেকে জামিনদার হিসেবে দাঁড় করিয়ে নিজের ব্যাংক হিসাবের চেক ও স্ট্যাম্প প্রদান করেন। এর বিপরীতে তার খালু মোঃ হোসেন আলী ১৮ লাখ টাকার একটি চেক দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলী জিন্নাহর ভাষ্য, দীর্ঘদিনেও ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে তার খালাতো বোন ও ভগ্নিপতি এবং পরিবারের সদস্যদের কেউ বিদেশে চলে যান। পরে তিনি জানতে পারেন তার খালাতো বোন নারায়ণগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন। গত ২৯ আগস্ট তিনি সেখানে গেলে তার খালু তাকে দেখে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে আলোচনার জন্য আলী জিন্নাহ তার খালাতো বোনকে নিয়ে নবাবগঞ্জ থানাধীন বান্দুরা-হাসনাবাদ এলাকার এক পরিচিত ব্যক্তির বাসায় যান বলে জানান। তার দাবি, সেখানে অবস্থানকালে তার খালাতো বোন ৯৯৯-এ ফোন করে তাকে অপহরণ, ৫ লাখ টাকা নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুদর্শনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আলী জিন্নাহ দাবি করেন, পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে তিনি পুলিশকে জানান।

তার আরও অভিযোগ, এ সময় তার নিউজ পোর্টালের নবাবগঞ্জ থানা প্রতিনিধির কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিনিধির স্ত্রী ফোনে তাকে জানান, টাকা দেওয়ার মতো নগদ অর্থ না থাকায় স্বর্ণের কানের দুল বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

আলী জিন্নাহর অভিযোগ, পুলিশ সদস্যরা ৯৯৯-এ করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যশোরের একজন এএসপির যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়।

অন্যদিকে, ৩১ আগস্ট হোসনেয়ারার মা ও তার আরেক জামাই নবাবগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে ৯৯৯-এ করা অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে জানান এবং পাওনা টাকার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ জিম্মায় নিয়ে যান বলে দাবি করেন আলী জিন্নাহ।

লিখিত অভিযোগে তিনি নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুদর্শন, তার সঙ্গে থাকা পাঁচজন কনস্টেবল এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হানিফের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।