ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গৃহবন্দিত্ব থেকে গ্রেফতার ওমর-মুফতি

  • আপডেট সময়: ১১:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০১৯
  • ১২০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় রোববার রাতেই গৃহবন্দি করা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মিরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। আটক করা হয়েছিল সাজাদ লোনসহ রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে। সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে একগুচ্ছ ‘উস্কানিমূলক’ ট্যুইট করতেই গ্রেফতার করা হয় ন্যাশনাল কংগ্রেস নেতা আবদুল্লাহ, পিডিপি নেত্রী মুফতি, পিপলস কনফারেন্স নেতা লোন ও ইমরান আনসারিকে।

এদিন সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর সাবেক বিজেপি শরিক মুফতিকে শ্রীনগরের তার বাড়ি থেকে সরিয়ে স্থানীয় এক সরকারি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। রোবার রাতে গৃহবন্দি রাখা হলেও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যুইটারে সরব হয়েছিলেন তিনি। সরকারের ‘সর্বনাশা পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে মেহবুবা লেখেন, ‘আজ ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্ধকারতম দিন। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্ব খারিজ করে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মিরের নেতারা নিয়েছিলেন, তাকে পিছন থেকে ছুরি মারা হলো। ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে ভারত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতকে দখলদারি শক্তি বানিয়ে দেবে। কাশ্মিরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্ত উপমহাদেশে বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

কেন্দ্রের সমালোচনা সরব হয়েছিলেন ওমর আবদুল্লাহও। জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষের বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে ধারাবাহিক ট্যুইট করেন আবদুল্লাহ। লেখেন, ‘১৯৪৭ সালে অন্তর্ভুক্তির সময় ভারতের উপর বিশ্বাস করেছিলেন জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফল হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। এটা রাজ্যের মানুষের উপর আগ্রাসন।’

এনসি নেতা আরো লিখেছেন, ‘গতকাল শ্রীনগরে সর্বদলীয় বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই সতর্ক করা হয়েছিল। কেন্দ্র সম্প্রতি প্রবঞ্চনা করে গোপনে এই সর্বনাশা সিদ্ধান্তের জন্য জমি তৈরি করেছিল। ভারত সরকার ও তার প্রতিনিধিরা আমাদের মিথ্যা বলেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে বড় কোনো পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কাই দুর্ভাগ্যবশত সত্যি হলো।’

এট্যুইটের পরই গ্রেফতার করা হয় আবদুল্লাহকে। যদিও, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

গৃহবন্দিত্ব থেকে গ্রেফতার ওমর-মুফতি

আপডেট সময়: ১১:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় রোববার রাতেই গৃহবন্দি করা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মিরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। আটক করা হয়েছিল সাজাদ লোনসহ রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে। সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে একগুচ্ছ ‘উস্কানিমূলক’ ট্যুইট করতেই গ্রেফতার করা হয় ন্যাশনাল কংগ্রেস নেতা আবদুল্লাহ, পিডিপি নেত্রী মুফতি, পিপলস কনফারেন্স নেতা লোন ও ইমরান আনসারিকে।

এদিন সন্ধ্যায় গ্রেফতারের পর সাবেক বিজেপি শরিক মুফতিকে শ্রীনগরের তার বাড়ি থেকে সরিয়ে স্থানীয় এক সরকারি গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। রোবার রাতে গৃহবন্দি রাখা হলেও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্যুইটারে সরব হয়েছিলেন তিনি। সরকারের ‘সর্বনাশা পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে মেহবুবা লেখেন, ‘আজ ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্ধকারতম দিন। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্ব খারিজ করে ভারতের সঙ্গে থাকার যে সিদ্ধান্ত জম্মু ও কাশ্মিরের নেতারা নিয়েছিলেন, তাকে পিছন থেকে ছুরি মারা হলো। ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে ভারত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত বেআইনি ও অসাংবিধানিক। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মিরে ভারতকে দখলদারি শক্তি বানিয়ে দেবে। কাশ্মিরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত। এই সিদ্ধান্ত উপমহাদেশে বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

কেন্দ্রের সমালোচনা সরব হয়েছিলেন ওমর আবদুল্লাহও। জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষের বিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ নিয়ে ধারাবাহিক ট্যুইট করেন আবদুল্লাহ। লেখেন, ‘১৯৪৭ সালে অন্তর্ভুক্তির সময় ভারতের উপর বিশ্বাস করেছিলেন জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফল হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। এটা রাজ্যের মানুষের উপর আগ্রাসন।’

এনসি নেতা আরো লিখেছেন, ‘গতকাল শ্রীনগরে সর্বদলীয় বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই সতর্ক করা হয়েছিল। কেন্দ্র সম্প্রতি প্রবঞ্চনা করে গোপনে এই সর্বনাশা সিদ্ধান্তের জন্য জমি তৈরি করেছিল। ভারত সরকার ও তার প্রতিনিধিরা আমাদের মিথ্যা বলেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে বড় কোনো পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কাই দুর্ভাগ্যবশত সত্যি হলো।’

এট্যুইটের পরই গ্রেফতার করা হয় আবদুল্লাহকে। যদিও, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ।