ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ার শীর্ষ চরমপন্থি লাল্টু সহযোগীসহ যশোরে আটক

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
  • ৯৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগীয় সামরিক প্রধান আব্দুল লতিফ লাল্টু ও তার সহযোগী ইদ্রিস মন্ডলকে আটক করা হয়েছে। এ সময় দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, দুটি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব এসব তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে যশোর র‌্যাব। আব্দুল লতিফ লাল্টুর বাড়ি কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার দুর্বাচারা গ্রামে এবং ইদ্রিস মন্ডল একই গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেজর মোহাম্মদ সাকিব জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট পাকা রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি শুরু করা হয়। রাত ১০টার একটি মোটরসাইকেল তল্লাশির জন্য সিগন্যাল দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আব্দুল লতিফ লাল্টুর দেহ তল্লাশি করে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ম্যাগাজিনের মধ্যে থেকে ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার সাথে আটক সহযোগী ইদ্রিস মন্ডলের হেফাজত থেকে একটি রিভলভার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব আরো জানান, ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগের সামরিক প্রধান হিসেবে আব্দুল লতিফ লাল্টু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থি সংগঠন ‘শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজ’ প্রতিষ্ঠা করে। তার বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগীদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে। পরবর্তীতে তার নিজের এলাকায় একটি ২০-৩০ জনের গ্রুপ তৈরি করে নিজ জেলার মধ্যে খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশন শুরু করে।

এদিকে বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পুলিশের হাতে আটক হন আব্দুল লতিফ লাল্টু। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে লাল্টুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার দুর্বাচারা এলাকায় অর্ধশতাধিক গুলিবর্ষণসহ বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৯ রোগী

কুষ্টিয়ার শীর্ষ চরমপন্থি লাল্টু সহযোগীসহ যশোরে আটক

আপডেট সময়: ০৯:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগীয় সামরিক প্রধান আব্দুল লতিফ লাল্টু ও তার সহযোগী ইদ্রিস মন্ডলকে আটক করা হয়েছে। এ সময় দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, দুটি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব এসব তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে যশোর র‌্যাব। আব্দুল লতিফ লাল্টুর বাড়ি কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার দুর্বাচারা গ্রামে এবং ইদ্রিস মন্ডল একই গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেজর মোহাম্মদ সাকিব জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট পাকা রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি শুরু করা হয়। রাত ১০টার একটি মোটরসাইকেল তল্লাশির জন্য সিগন্যাল দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আব্দুল লতিফ লাল্টুর দেহ তল্লাশি করে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন এবং ম্যাগাজিনের মধ্যে থেকে ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার সাথে আটক সহযোগী ইদ্রিস মন্ডলের হেফাজত থেকে একটি রিভলভার ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব আরো জানান, ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থি সংগঠন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা বিভাগের সামরিক প্রধান হিসেবে আব্দুল লতিফ লাল্টু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত শীর্ষ চরমপন্থি সংগঠন ‘শ্রমজীবী গণমুক্তিফৌজ’ প্রতিষ্ঠা করে। তার বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগীদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে। পরবর্তীতে তার নিজের এলাকায় একটি ২০-৩০ জনের গ্রুপ তৈরি করে নিজ জেলার মধ্যে খুন, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশন শুরু করে।

এদিকে বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর পুলিশের হাতে আটক হন আব্দুল লতিফ লাল্টু। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে লাল্টুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার দুর্বাচারা এলাকায় অর্ধশতাধিক গুলিবর্ষণসহ বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।