ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার ছেলে সাঁতার জানত, সনদও ছিল, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

  • আপডেট সময়: ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সউরি সাঁতার জানতেন। পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করে সনদও অর্জন করেছিলেন তিনি। এ কারণে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে ছোট ভাই দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার’ তথ্য মানতে রাজি নন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এক গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।

তিনি বলেন, না না, এ ধরনের কিছু ঘটতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া করা হবে? এগুলো বাজে কথা, এমন প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। সে তো পাইলট। তাদের সুইমিং কোর্স করতে হয় এবং এ বিষয়ে সার্টিফিকেটও রয়েছে। সাঁতারের ওপর আমার ছেলের বড় ধরনের কোর্স করা আছে।

ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই তো এমনটাই মনে হয়। কিন্তু লোকজন তাকে কেন ধাওয়া করবে? কেন কেউ তাকে তাড়া করবে? আমার মনে হচ্ছে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ছোট ভাই দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সেই দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থলে) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর আমি পালিয়ে আসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেগুলো প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

এদিকে তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, দীপের দেখানো জায়গা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার আওতাধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানটি উত্তরখান থানার অধীন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থানটি টঙ্গী পশ্চিম থানার আওতাধীন। তবে দুটি স্থানের সঙ্গেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছোট ভাই দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, বাসায় ফিরছেন।

তবে ওই বার্তায় তাহসিফকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ওই বার্তা পাওয়ার পর থেকেই তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ছাড়া শুরু থেকেই ছেলেকে হত্যার অভিযোগ করে আসছেন এনায়েতুল করিম। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আমরা দীপকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি আমরা। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। আপাতত তদন্ত চলছে। রহস্য উদঘাটন হলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘আমার ছেলে সাঁতার জানত, সনদও ছিল, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

‘আমার ছেলে সাঁতার জানত, সনদও ছিল, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

আপডেট সময়: ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সউরি সাঁতার জানতেন। পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সাঁতারের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করে সনদও অর্জন করেছিলেন তিনি। এ কারণে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদে ছোট ভাই দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার’ তথ্য মানতে রাজি নন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইকে দীপের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এক গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা।

তিনি বলেন, না না, এ ধরনের কিছু ঘটতে পারে না। কেন তাকে ধাওয়া করা হবে? এগুলো বাজে কথা, এমন প্রশ্নই আসে না। আমার ছেলে সাঁতার জানত। সে তো পাইলট। তাদের সুইমিং কোর্স করতে হয় এবং এ বিষয়ে সার্টিফিকেটও রয়েছে। সাঁতারের ওপর আমার ছেলের বড় ধরনের কোর্স করা আছে।

ঘটনা আড়াল করা কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই তো এমনটাই মনে হয়। কিন্তু লোকজন তাকে কেন ধাওয়া করবে? কেন কেউ তাকে তাড়া করবে? আমার মনে হচ্ছে, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে। বিষয়টি অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ছোট ভাই দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। সেই দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, আমরা সেখানে (ঘটনাস্থলে) কথা বলছিলাম। এ সময় কিছু লোক ধাওয়া করে। তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর আমি পালিয়ে আসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেগুলো প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

এদিকে তুরাগ নদের যে স্থান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে। এটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার বলেন, দীপের দেখানো জায়গা থেকে নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বর প্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফ বাসা থেকে যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিও নম্বর প্লেটবিহীন ছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।’

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার আওতাধীন তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানটি উত্তরখান থানার অধীন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থানটি টঙ্গী পশ্চিম থানার আওতাধীন। তবে দুটি স্থানের সঙ্গেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছোট ভাই দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, বাসায় ফিরছেন।

তবে ওই বার্তায় তাহসিফকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, ওই বার্তা পাওয়ার পর থেকেই তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ছাড়া শুরু থেকেই ছেলেকে হত্যার অভিযোগ করে আসছেন এনায়েতুল করিম। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

পিবিআই মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, আমরা দীপকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তারা কেন সেখানে গিয়েছিলেন, তাকে কেউ হত্যা করেছে কি না, নাকি এটি দুর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা— এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি আমরা। এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। আপাতত তদন্ত চলছে। রহস্য উদঘাটন হলে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।