ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুরআন হাতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

  • আপডেট সময়: ০৩:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম ও সর্বকনিষ্ঠ মেয়র ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতের পর ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক, পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআন শরিফে হাত রেখে শপথ নেন ডেমোক্র্যাট দলের এই নেতা। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

শপথ গ্রহণের পর মামদানি বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও গর্বের মুহূর্ত।”

ঐতিহাসিক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রতীকী। পরে বৃহস্পতিবার ( ১ জানুয়ারি) বিকেলে নিউইয়র্ক সিটি হলে আনুষ্ঠানিক গণ-শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে পুনরায় শপথ পাঠ করাবেন। এরপর ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, একই সঙ্গে আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মেয়র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সবচেয়ে ব্যস্ত ও আলোচিত মেয়র পদগুলোর একটি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

নির্বাচনী প্রচারে ‘জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো’কে প্রধান ইস্যু করে মামদানি বিনা মূল্যে শিশু পরিচর্যা, ফ্রি বাস সার্ভিস, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং সিটি পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে নগর ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ—বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত, ইঁদুর সমস্যা, সাবওয়ে বিলম্ব ও সড়কের গর্ত—নিয়েও তাকে মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক

মামদানির মেয়রত্বে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন এবং ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকি দেন।

তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প মামদানির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবুও মামদানি পরে বলেন, ট্রাম্পকে তিনি এখনও ‘ফ্যাসিস্ট’ বলেই মনে করেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়

উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া মামদানি ভারতীয় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। সাত বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কে আসেন এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

২০২০ সালে কুইন্স এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে অঙ্গরাজ্য অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণায় কাজ করেন। সীমিত পরিচিতি নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন ও পরে মেয়র নির্বাচনে জয় লাভ করেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কুরআন হাতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

আপডেট সময়: ০৩:০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম ও সর্বকনিষ্ঠ মেয়র ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতের পর ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক, পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআন শরিফে হাত রেখে শপথ নেন ডেমোক্র্যাট দলের এই নেতা। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

শপথ গ্রহণের পর মামদানি বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও গর্বের মুহূর্ত।”

ঐতিহাসিক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রতীকী। পরে বৃহস্পতিবার ( ১ জানুয়ারি) বিকেলে নিউইয়র্ক সিটি হলে আনুষ্ঠানিক গণ-শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে পুনরায় শপথ পাঠ করাবেন। এরপর ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় একটি জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র, একই সঙ্গে আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মেয়র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সবচেয়ে ব্যস্ত ও আলোচিত মেয়র পদগুলোর একটি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

নির্বাচনী প্রচারে ‘জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো’কে প্রধান ইস্যু করে মামদানি বিনা মূল্যে শিশু পরিচর্যা, ফ্রি বাস সার্ভিস, প্রায় ১০ লাখ ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং সিটি পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে নগর ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ—বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তুষারপাত, ইঁদুর সমস্যা, সাবওয়ে বিলম্ব ও সড়কের গর্ত—নিয়েও তাকে মোকাবিলা করতে হবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক

মামদানির মেয়রত্বে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প মামদানির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন এবং ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকি দেন।

তবে নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প মামদানির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তবুও মামদানি পরে বলেন, ট্রাম্পকে তিনি এখনও ‘ফ্যাসিস্ট’ বলেই মনে করেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচয়

উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া মামদানি ভারতীয় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান। সাত বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কে আসেন এবং ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।

২০২০ সালে কুইন্স এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে অঙ্গরাজ্য অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচারণায় কাজ করেন। সীমিত পরিচিতি নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

শেষ পর্যন্ত তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন ও পরে মেয়র নির্বাচনে জয় লাভ করেন।